ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলায় কিশোরদের ফুটবল খেলা নিয়ে শুরু হওয়া ছোট একটি বিবাদ ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। স্বল্পনোয়াগাঁও ও নতুন হাবেলিপাড়া—এই দুই গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে চরম সংঘাতের ঘটনা ঘটেছে, যার ফলে অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে সরাইল সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) জাহাঙ্গীর আলম এবং সরাইল সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল জব্বারও রয়েছেন।

ঘটনার সূত্রপাত হয় বিকেল সাড়ে চারটায় স্বল্পনোয়াগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে অনুষ্ঠিত একটি ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে। প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বিকেল পাঁচটার দিকে নতুন হাবেলিপাড়া গ্রামের এক কিশোর স্বল্পনোয়াগাঁও গ্রামের অন্য এক কিশোরকে মারধর করে। উল্লেখ্য, তারা দুজনেই ওই খেলার দর্শক ছিলেন। এই সামান্য ঘটনাটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং সন্ধ্যা ছয়ে উভয় গ্রামের মানুষ লাঠিসোঁটা, ইটপাটকেল এবং দা-বল্লম নিয়ে গ্রামীণ সড়কে মুখোমুখি সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। রাতের অন্ধকারে টর্চলাইট জ্বালিয়ে দুই পক্ষ দীর্ঘক্ষণ ধরে সংঘাত চালিয়ে যায়। রাত সোয়া ১০টার দিকে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে শান্ত হয়।

এই সংঘর্ষে গুরুতর আহত হয়েছেন মেহরাব আলম নামের এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী এবং রুক্কু হোসেন নামের একজন ব্যবসায়ী। তাদের আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসার জন্য দ্রুত ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়েছে। অন্যদিকে, সংঘর্ষ থামানোর চেষ্টা করতে গিয়ে পায়ে ও কোমরে আঘাত পান ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আবদুল জব্বার। তিনি জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলেও তিনি বরফ দিয়ে জখম স্থানগুলোতে চিকিৎসা নিচ্ছেন। একই সাথে ইটের আঘাতে আহত হয়েছেন সহকারী পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর আলম।

সরাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসা কর্মকর্তা সাব্বির আহমেদ নিশ্চিত করেছেন যে, রাত সাড়ে ৯টার মধ্যে অন্তত ৩৫ জন এখানে প্রাথমিক চিকিৎসা গ্রহণ করেছেন এবং পরবর্তীতে আরও অনেকে সেখানে এসেছেন। সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনজুর কাদের ভূঁইয়া জানান, পুলিশ সদস্যদের ওপরও হামলা চালানো হয়েছে এবং সার্কেল অফিসার আহত হয়েছেন। তিনি আশ্বস্ত করে বলেন, এই অরাজক পরিস্থিতির সঙ্গে জড়িত সবাইকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হবে।