বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল সময় টিভির সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আহমেদ জোবায়েরের বিরুদ্ধে প্রতারণা এবং অর্থ আত্মসাতের মামলায় বিচার কাজ শুরুর নির্দেশ দিয়েছে আদালত। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমানের আদালত এই আদেশ প্রদান করেন। মামলার আসামি হিসেবে থাকা জোবায়েরের অব্যাহতি আবেদন খারিজ করে দিয়ে আদালত আগামী ১০ নভেম্বর সাক্ষ্য গ্রহণের তারিখ নির্ধারণ করেছেন। আহমেদ জোবায়েরের আইনজীবী সালেহ উদ্দিন এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, আদালত থেকে অব্যাহতি এবং জামিনের আবেদন জানানো হলেও তা প্রত্যাখ্যাত হয়েছে। এছাড়া প্রতারণা ও জালিয়াতির অভিযোগে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ইশরাত জাহানের আদালতে করা তাঁর জামিনের আবেদনও নামঞ্জুর করা হয়েছে।
মামলার বিস্তারিত বিবরণ অনুযায়ী, সময় টেলিভিশনের শীর্ষ দায়িত্বে থাকাকালীন প্রতিষ্ঠানটির তহবিল থেকে ২ কোটি ৩৩ লাখ টাকা নিয়মবহির্ভূতভাবে আত্মসাৎ করেছেন আহমেদ জোবায়ের। পরবর্তীতে তাঁকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হলে প্রতিষ্ঠানের দুটি গাড়ি এবং আত্মসাৎ করা অর্থ ফেরত দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়, কিন্তু তিনি তাতে অস্বীকৃতি জানান। সময় টিভির মালিকানা প্রতিষ্ঠান সিটি গ্রুপের পক্ষ থেকে আইনি নোটিশ পাঠানো হলেও কোনো সাড়া পাননি তারা। এই প্রেক্ষাপটে ২০২৫ সালের ৫ মে সময় টিভির জ্যেষ্ঠ ব্যবস্থাপক সৈয়দ আসাদুজ্জামান একটি মামলা দায়ের করেন। পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) তদন্ত শেষে আদালতে প্রতিবেদন জমা দিলে গত ৩ আগস্ট তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
উল্লেখ্য যে, এই অর্থ আত্মসাতের মামলাটি ছাড়াও প্রতারণা, জালিয়াতি ও বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগে করা অন্য একটি মামলায় গত বছরের ১৮ জুন থেকে কারাগারে বন্দি রয়েছেন আহমেদ জোবায়ের। গত বছরের ১০ মে দায়ের হওয়া ওই মামলায় সমন জারি করার পর ১৭ জুনের মধ্যে হাজির না হওয়ায় তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছিল। পরদিন আদালতে আত্মসমর্পণ করলেও তিনি জামিন পাননি এবং তাঁর করা পরবর্তী আবেদনগুলোও আদালত নাকচ করে দিয়েছেন। তবে ওই মামলায় জোবায়ের ছাড়া বাকি সকল আসামি বর্তমানে জামিনে মুক্ত আছেন। আইনজীবী সালেহ উদ্দিনের দাবি, সময় মিডিয়া লিমিটেডে ১৭.৫ শতাংশ শেয়ারের মালিক আহমেদ জোবায়ের। তাঁর মতে, মূলত তাঁকে সামাজিকভাবে হেয় করার উদ্দেশ্যেই এই মামলাগুলো করা হয়েছে।




