খাবারের সাজসজ্জা এবং স্বাদ বৃদ্ধিতে জ্যান্ত পিঁপড়া ব্যবহারের অদ্ভুত কাণ্ড ঘটিয়ে বড় ধরনের আইনি জটিলতায় পড়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউলের একটি নামকরা ও অভিজাত রেস্তোরাঁ। 'ইভেট' নামক এই বিলাসবহুল প্রতিষ্ঠানটি তাদের বিশেষ মিষ্টান্ন পরিবেশনের ক্ষেত্রে জ্যান্ত পিঁপড়া ব্যবহার করে আসছিল, যা সম্প্রতি স্থানীয় আদালতের নজরে আসে। খাদ্য পরিচ্ছন্নতা আইন অমান্য করার অপরাধে রেস্তোরাঁটির মালিককে ১৫ মিলিয়ন ওন (প্রায় সাড়ে ১৩ লাখ টাকা) এবং পরিচালনাকারী সংস্থাকে ১০ মিলিয়ন ওন জরিমানা করার নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক।

ঘটনাটি প্রথম সামনে আসে যখন কিছু গ্রাহক ওই রেস্তোরাঁর খাবার নিয়ে অনলাইনে তাদের অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন এবং ছবি পোস্ট করেন। এসব রিভিউ পর্যালোচনা করে দক্ষিণ কোরিয়ার খাদ্য ও ওষুধ নিরাপত্তা মন্ত্রণালয় বিষয়টি তদন্ত শুরু করে। তদন্তের পর বেরিয়ে আসে এক চমকপ্রদ তথ্য। জানা যায়, গত চার বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি থাইল্যান্ড থেকেও বিপুল পরিমাণে পিঁপড়া আমদানি করা হচ্ছিল। রেস্তোরাঁটির একটি বিশেষ ১৫ পদের মিষ্টান্ন মেনুর নান্দনিকতা বাড়ানো এবং টক স্বাদ যুক্ত করার উদ্দেশ্যে হাজার হাজার জ্যান্ত পিঁপড়া ব্যবহার করা হয়েছে।

আদালতে এই মামলার শুনানি চলাকালীন বিচারক অত্যন্ত কঠোর মন্তব্য করেন। তিনি জানান, এই ঘটনা কেবল দক্ষিণ কোরিয়ার খাদ্য নীতিমালা ভঙ্গ করেনি, বরং স্বাস্থ্যগত দিক থেকেও এটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। গবেষণাগারে পরীক্ষা করে দেখা গেছে, ব্যবহৃত পিঁপড়াগুলোর শরীরে ক্ষতিকারক ভারী ধাতুর উপস্থিতি রয়েছে, যা মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকির কারণ হতে পারে। ফলে এই অপরাধকে কোনোভাবেই হালকাভাবে দেখার সুযোগ নেই বলে তিনি স্পষ্ট করেন।

অন্যদিকে, অভিযুক্ত রেস্তোরাঁ মালিক আদালতে নিজের আত্মপক্ষ সমর্থনে দাবি করেন যে, বিশ্বের অনেক দেশেই পিঁপড়া খাওয়ার প্রচলন রয়েছে, তাই দক্ষিণ কোরিয়ায় এটি যে নিষিদ্ধ তা তিনি জানতেন না। পাশাপাশি তিনি উল্লেখ করেন, তাদের মোট খাবারের মেনুর খুব সামান্য একটি অংশেই এই পিঁপড়া ব্যবহার করা হতো। তবে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রচলিত আইন অনুযায়ী, মানুষের খাওয়ার উপযোগী অনুমোদিত ১০টি পোকামাকড়ের তালিকায় ঘাসফড়িং, পঙ্গপাল ও নির্দিষ্ট কিছু রেশম পোকা থাকলেও পিঁপড়ার নাম নেই।