স্পেনের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় এলাকাগুলোতে প্রবল বর্ষণ ও আকস্মিক বন্যায় ব্যাপক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়েছে, যাতে একজন ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। দেশটির জাতীয় আবহাওয়া সংস্থা AEMET বুধবার পূর্বঞ্চলীয় এলাকাগুলোতে ভারী বৃষ্টির সতর্কবার্তা জারি করেছিল, যার মধ্যে বার্সেলোনার উপকূলীয় অঞ্চলের জন্য 'রেড অ্যালার্ট' ছিল।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বার্সেলোনা থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার পশ্চিমে অলিভেল্লায় এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। একটি স্রোতস্বিনীতে তার গাড়ি ভেসে যাওয়ার পর বৃহস্পতিবার উদ্ধারকারী দল তার দেহটি খুঁজে পায়। ক্যাটালান ফায়ারফাইটাররা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ এই মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে এবং এর আগে নিখোঁজ ব্যক্তিটি একজন নারী ছিলেন বলে দেওয়া ভুল তথ্যের সংশোধন করে জানান।

প্রবল এই বৃষ্টিপাত ক্যাটালোনিয়া ও ভ্যালেন্সিয়া অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থাকে অচল করে দিয়েছে। অনেক সড়ক পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় এবং ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় যাতায়াত ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। পরিস্থিতি অত্যন্ত জটিল বলে সতর্ক করেছেন স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ এবং অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। ক্যাটালোনিয়ার জরুরি সেবা বিভাগ জানিয়েছে, তারা বৃষ্টিপাত সংক্রান্ত ৮৫০টিরও বেশি ফোন কল পেয়েছে এবং ৫০০টির বেশি ঘটনার রেকর্ড করেছে।

বার্সেলোনা শহরে বেশ কিছু মেট্রো স্টেশন বন্ধ রাখা হয়েছে এবং বাস রুট পরিবর্তন করা হয়েছে। এছাড়া আঞ্চলিক ট্রেন চলাচল ব্যাহত হয়েছে এবং এল প্রাত বিমানবন্দরে ফ্লাইট বিলম্বিত বা বাতিল করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, অনেক গাড়ি আংশিকভাবে পানির নিচে তলিয়ে আছে এবং উদ্ধারকর্মীরা প্লাবিত আন্ডারপাস থেকে আটকা পড়া যানবাহন উদ্ধারের চেষ্টা করছেন।

প্রতিবেশী অঞ্চল ভ্যালেন্সিয়ায় পরিস্থিতি ছিল আরও ভয়াবহ। AVAMET-এর তথ্য অনুযায়ী, বেশ কিছু পৌরসভায় মাত্র আধা ঘণ্টায় ৭০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে। আবহাওয়া সমিতি জানিয়েছে, এত অল্প সময়ে বৃষ্টির এমন পরিমাণ তারা খুব কমই দেখেছে। ভ্যালেন্সিয়া প্রদেশে মোট ৪৭৮টি ঘটনার খবর পাওয়া গেছে, যার বেশিরভাগই ছিল সম্পত্তির ক্ষতি, পানির লিকেজ এবং যানজট। শহরের সব মেট্রো লাইন স্থগিত করা হয় এবং বিমানবন্দর কয়েক ঘণ্টার জন্য বন্ধ থাকায় ফ্লাইটগুলো অন্য গন্তব্যে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ভূমধ্যসাগরীয় ঝড়গুলো আরও শক্তিশালী হচ্ছে, যা সাধারণত শরতের শুরুতে পূর্ব স্পেনে আঘাত হানে। গ্রীষ্মকালে ভূমধ্যসাগর অধিক তাপ শোষণ করে, ফলে বাষ্পীভবন বৃদ্ধি পায় এবং ঝড় তৈরি হলে অতিবৃষ্টির সম্ভাবনা বাড়ে। উল্লেখ্য, এই দুর্যোগের আগে স্পেন তাদের ইতিহাসের উষ্ণতম গ্রীষ্ম এবং সেপ্টেম্বরের শুরুর দিকে অস্বাভাবিক উষ্ণ আবহাওয়ার মধ্য দিয়ে গেছে। এর প্রায় দুই বছর আগেই ভ্যালেন্সিয়ার এক ভয়াবহ বন্যায় ২৩০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছিল।