বাজারে প্রচলিত কোল্ড ড্রিংক বা কার্বোনেটেড পানীয়ের প্রতি মানুষের আকর্ষণ দিন দিন বাড়ছে। রং-বেরঙের এসব পানীয়তে কী থাকে, তা অনেকেই জানেন না। সম্প্রতি বিজ্ঞানচিন্তা পত্রিকার জুলাই সংখ্যায় প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এসব পানীয়ের উপাদান ও সম্ভাব্য স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, কার্বোনেটেড ড্রিংকের প্রধান উপাদান হলো পানি। এর সঙ্গে দ্রবীভূত অবস্থায় থাকে কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্যাস। বোতল বা ক্যান খোলার সঙ্গে সঙ্গে এই গ্যাস বেরিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে, ফলে ফিজ শব্দে বুদবুদ ওঠে। দ্রুত গ্যাস নিঃসরণের কারণে যে চাপ তৈরি হয়, সেটিই এই প্রতিক্রিয়ার মূল কারণ বলে বিজ্ঞানীরা ব্যাখ্যা দিয়েছেন।
এক বোতল কোল্ড ড্রিংকে সাধারণত পাঁচ থেকে ছয় চামচ চিনি থাকে। এই চিনিই পানীয়টির অধিকাংশ ক্যালরির যোগান দেয়। এছাড়া ঝাঁঝালো বা টক স্বাদ বজায় রাখতে অল্প পরিমাণে ফসফরিক বা সাইট্রিক অ্যাসিড ব্যবহার করা হয়। অনেক পানীয়তে সামান্য ক্যাফেইনও থাকে, যা দেহে ত্বরিত চাঙা ভাব আনে। পানীয়ের আকর্ষণীয় রং ও গন্ধের জন্য ফুড কালার এবং স্বাদবর্ধক উপাদান যুক্ত করা হয়।
এসব উপাদানের কারণে পানীয়গুলো দেখতে লোভনীয় ও সুস্বাদু হয়। তবে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, অতিরিক্ত চিনি এবং অ্যাসিডের কারণে এসব পানীয়ের কিছু ক্ষতিকারক দিকও রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিয়মিত অতিরিক্ত পরিমাণে কার্বোনেটেড ড্রিংক সেবন স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তবে সঠিক পরিমাণে মাঝে মাঝে পান করলে তেমন সমস্যা নাও হতে পারে।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এসব পানীয় ফিজি, লিমো, সোডা, রিফ্রেসকো, পপ, বুয়াসম গ্যাজুজ, রেফ্রিজারেন্টি ইত্যাদি নামে পরিচিত। স্থানভেদে নাম ও স্বাদে ভিন্নতা থাকলেও মূল উপাদান প্রায় একই রকম। ভোক্তাদের সচেতনতার জন্য প্রতিবেদনে পানীয়ের পুষ্টি তথ্য ও উপাদান তালিকা মনোযোগ দিয়ে পড়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।




