উপকূলীয় অঞ্চলের স্কুলগামী শিক্ষার্থীরা যেন প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা, নিরাপত্তা ও আইনি সহায়তা পেতে পারে, সেই লক্ষ্যে কক্সবাজারে শুরু হয়েছে একটি বিশেষ উদ্যোগ। জাগো ফাউন্ডেশন ট্রাস্টের আয়োজনে এবং ইউনিসেফের কারিগরি ও আর্থিক সহযোগিতায় পরিচালিত ‘স্বপ্নসারথি-সি-শোর গার্লস প্রজেক্ট’-এর অংশ হিসেবে ৩০ আগস্ট থেকে ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলছে এই সচেতনতামূলক প্রচারণা।
প্রচারণার প্রথম দিনে আবুল কাশেম হাইস্কুলে কর্মসূচি শুরু হয়, এরপর পর্যায়ক্রমে কুরুলিয়া হাইস্কুল ও খুরুশকুল হাইস্কুলে আয়োজন করা হয়। প্রতিদিন দুপুর ১টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত তিন ঘণ্টাব্যাপী এসব সেশনে তিনটি বিদ্যালয়ের মোট ৭৫০ জন শিক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে। আয়োজকরা জানিয়েছেন, প্রয়োজনীয় তথ্যের অভাবে উপকূলের অনেক কিশোর-কিশোরী সঠিক সময়ে সেবা পায় না। স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কর্মসংস্থান, কারিগরি প্রশিক্ষণ এবং আইনি সহায়তার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তাদের ধারণা দেওয়াই এই কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য।
শিশু সুরক্ষা, জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধ এবং সেফগার্ডিংয়ের মতো বিষয়গুলোতে আলোকপাত করা হচ্ছে। একইসঙ্গে সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার যুব-বান্ধব সেবা কীভাবে পাওয়া যায়, তার পদ্ধতি ও ‘সার্ভিস ডিরেক্টরি’ সম্পর্কেও শিক্ষার্থীদের অবহিত করা হচ্ছে। প্রকল্প ব্যবস্থাপক আমজাদ হোসেন বলেন, সেবা ম্যাপিংয়ের মাধ্যমে প্রাপ্ত তথ্য ও সুপারিশগুলো তখনই কার্যকর হবে, যখন কিশোর-কিশোরীরা সেগুলো বাস্তব জীবনে ব্যবহার করতে পারবে।
কর্মসূচিতে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯, নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ হেল্পলাইন ১০৯ এবং শিশু সুরক্ষা হেল্পলাইন ১০৯৮-এর ব্যবহার ও রেফারেল প্রক্রিয়া বিস্তারিতভাবে শেখানো হয়। শুধু আলোচনায় সীমাবদ্ধ না রেখে শিক্ষার্থীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে আয়োজন করা হয়েছে শিশু সুরক্ষাবিষয়ক চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, কুইজ এবং উন্মুক্ত প্রশ্নোত্তর পর্ব।
আবুল কাশেম উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নূর মোহাম্মদ বলেন, শিক্ষার্থীদের শুধু জানা যথেষ্ট নয় যে কোথায় কী সেবা পাওয়া যায়, বরং প্রয়োজন হলে কীভাবে সেই সেবায় পৌঁছাতে হবে এবং নিজের অধিকার সম্পর্কে সচেতন থাকতে হবে। এই ধরনের উদ্যোগ তাদের আরও নিরাপদ, আত্মবিশ্বাসী এবং দায়িত্বশীল নাগরিক হতে সাহায্য করবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী আসফিকা ইসলাম জানায়, অনেক সময় সমস্যায় পড়লে কোথায় সাহায্য চাইতে হবে তা বোঝা যায় না। এই সেশন থেকে সে হেল্পলাইন নম্বর, বিভিন্ন সেবার অবস্থান এবং নিজের ও অন্যের অধিকার সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পেয়েছে। এখন তার মনে হচ্ছে, প্রয়োজনে সে নিজেও সঠিক জায়গায় সাহায্য চাইতে পারবে এবং অন্যদেরও পথ দেখাতে পারবে।
‘স্বপ্নসারথি-সি-শোর গার্লস প্রজেক্ট’ মূলত শিক্ষা, জীবনদক্ষতা এবং নিরাপত্তা সেবায় প্রবেশাধিকার নিশ্চিতের মাধ্যমে উপকূলীয় কিশোরীদের ক্ষমতায়নে কাজ করছে। প্রকল্পের আওতায় তৈরি সার্ভিস ডিরেক্টরি শিক্ষার্থীদের জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের সঠিক তথ্য ও দিকনির্দেশনা পেতে সহায়তা করছে।


