ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম সিন্ডিকেটের সভায় ছাত্রী হলগুলোর গেট বন্ধের সময়সীমা এক ঘণ্টা বাড়িয়ে রাত ১১টা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর আগে রাত ১০টায় গেট বন্ধ হয়ে যেত। সোমবার অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম। সভা শেষে সহ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

একই সভায় জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে বিরোধিতার অভিযোগে তিন শিক্ষক এবং নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে নির্ধারিত শিক্ষাগত যোগ্যতা পূরণ না করার অভিযোগে আরেক শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের গঠিত তদন্ত কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক এম ওয়াহিদুজ্জামান চাঁন, একই ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক মুহাম্মদ মাহবুবুর রহমান এবং সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মশিউর রহমানের বিরুদ্ধে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালও গঠন করা হয়েছে।

সংগীত বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. জিয়াউর রহমান (সায়েম রানা) নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে বাধ্যতামূলক সংগীতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি না থাকা সত্ত্বেও শিক্ষক পদে যোগদানের অভিযোগে সাময়িক বরখাস্ত হয়েছেন। তিনি ইসলামিক স্টাডিজে অনার্স ও মাস্টার্স সম্পন্ন করেছেন, তবে সংগীত বিষয়ে এমফিল ও পিএইচডি করেছেন। তাঁর বিষয়ে আরও তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

বরখাস্ত হওয়া শিক্ষকদের প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মশিউর রহমান বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। তিনি দাবি করেন, আন্দোলনের সময় শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে কোনো মন্তব্য তিনি করেননি। প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তকে তিনি মুক্তবুদ্ধি চর্চার পরিপন্থী বলে অভিহিত করেন।

অন্যদিকে, শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক মুহাম্মদ মাহবুবুর রহমান বলেন, এই সিদ্ধান্তে তিনি একজন অধ্যাপক হিসেবে গভীরভাবে হতাশ। তাঁর মতে, জুলাই আন্দোলনে তিনি ছাত্রদের পক্ষেই ছিলেন এবং নিজের বিভাগের একজন শিক্ষার্থীকে জামিন করানোর জন্য থানাতেও গিয়েছিলেন। তিনি আরও অভিযোগ করেন, সাত থেকে আট বছর আগের অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁকে শাস্তি দেওয়া হয়েছে।

এদিকে, অধ্যাপক এম ওয়াহিদুজ্জামান চাঁনের সঙ্গে যোগাযোগের একাধিক চেষ্টা করেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী হল ২৪ ঘণ্টা খোলা রাখার দাবিতে শিক্ষক নেটওয়ার্কের পক্ষ থেকে উপাচার্যকে স্মারকলিপি দেওয়ার খবরও রয়েছে। তবে এই দাবির সঙ্গে সদ্য ঘোষিত সময়সীমা পরিবর্তনের কোনো সম্পর্ক আছে কি না, তা নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এই পদক্ষেপগুলো নিয়ে শিক্ষক সমাজ ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, শৃঙ্খলা রক্ষা ও একাডেমিক পরিবেশ ঠিক রাখতে প্রশাসন এ ধরনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তবে বরখাস্ত হওয়া শিক্ষকদের মধ্যে কেউ কেউ মনে করছেন এটি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার ফল।