দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় তেলের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করা সুস্থ থাকার অন্যতম শর্ত। রান্নায় তেলের ব্যবহার কমিয়ে আনতে এবং ক্যালরি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিশেষ কিছু কৌশল অবলম্বন করা যেতে পারে। নিচে সাতটি কার্যকর উপায়ের কথা উল্লেখ করা হলো:
প্রথমত, রান্নার জন্য নন-স্টিক কুকওয়্যার বা পাত্র ব্যবহার করা উচিত। এই ধরনের পাত্রে খাবার লেগে যায় না, ফলে খুব সামান্য তেলেই রান্না সম্পন্ন করা সম্ভব হয়। দ্বিতীয়ত, খাবার ভাজার প্রবণতা কমিয়ে দেওয়া প্রয়োজন। ভাজা খাবারের পরিবর্তে গ্রিল করা, বেক করা কিংবা স্টিম বা ভাপে রান্নার পদ্ধতি বেছে নিলে স্বাস্থ্যের ঝুঁকি কমে এবং তেলের খরচও বাঁচে।
তৃতীয়ত, তেল ব্যবহারের ক্ষেত্রে 'হাতে ঢালা'র অভ্যাস ত্যাগ করে নির্দিষ্ট পরিমাপ অনুসরণ করা উচিত। প্রতিদিনের জন্য প্রয়োজনীয় তেল আলাদা করে চামচে মেপে নিয়ে রাখলে প্রয়োজনের অতিরিক্ত তেল ব্যবহার হয় না। চতুর্থত, রান্নার সময় মসলা কষানোর জন্য সরাসরি প্রচুর তেল ব্যবহার না করে সামান্য পানি দিয়ে কষিয়ে নেওয়া যেতে পারে, এরপর খুব অল্প তেল যোগ করলেই চলে।
পঞ্চমত, তেলের স্প্রে বোতল ব্যবহার করা একটি আধুনিক ও কার্যকর পদ্ধতি। এতে একবার স্প্রে করলে খুব অল্প পরিমাণ তেল ছড়িয়ে পড়ে, যা ক্যালরি নিয়ন্ত্রণ সহজ করে তোলে। ষষ্ঠত, রান্নায় দানাদার মসলার ব্যবহার কমাতে হবে এবং অতিরিক্ত ভাজা এড়িয়ে চলতে হবে, কারণ মসলা যত বেশি ভাজা হয়, তেলের প্রয়োজন তত বৃদ্ধি পায়।
সপ্তমত, সবজি বা ডাল রান্নার ক্ষেত্রে তেলের পরিমাণ অত্যন্ত সীমিত রাখা উচিত। সাধারণত এক থেকে দুই চা-চামচের বেশি তেল ব্যবহার না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পরিশেষে, বলা হয়েছে যে তেল খেলে মনে আনন্দ প্রদানকারী হরমোনের নিঃসরণ হয়, তবে স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি এড়াতে এর পরিমাণের ব্যাপারে সতর্ক থাকা জরুরি।




