যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনটি রাজনৈতিক ইতিহাসে এক মাইলফলক হয়ে থাকবে, কারণ এবারের নির্বাচনে বহু প্রথম এবং ঐতিহাসিক জয় এসেছে। বিভিন্ন জাতিগত সংখ্যালঘু এবং নারী রাজনীতিবিদরা গুরুত্বপূর্ণ পদে নির্বাচিত হয়ে ভেঙে দিয়েছেন দীর্ঘদিনের প্রথা।

গভর্নর পদের লড়াইয়ে সবচেয়ে বড় চমক দেখিয়েছেন কেইশা ল্যান্স বটমস। তিনি কেবল যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ নারী গভর্নর হিসেবেই নির্বাচিত হননি, বরং জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের ইতিহাসে প্রথম নারী এবং প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ গভর্নর হওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন। একইভাবে ইতিহাস গড়েছেন ডেব হাল্যান্ড, যিনি দেশটির প্রথম আদিবাসী নারী গভর্নর নির্বাচিত হয়েছেন। লাগুনা পুয়েবলো জনগোষ্ঠীর সদস্য এই নেতা এর আগে নিউ মেক্সিকোর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব সামলেছেন।

সিনেটের লড়াইয়ে ইতিহাস গড়েছেন চিকিৎসক ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ আবদুল আল–সাইদ। মিশিগান অঙ্গরাজ্য থেকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম মুসলিম সিনেটর হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন তিনি, যার বাবার শিকড় মিশরে। পাশাপাশি, প্রথম প্রকাশ্যে সমকামী পুরুষ সিনেটর নির্বাচিত হওয়ার মাধ্যমে এবারের নির্বাচন আরও বৈচিত্র্যময় হয়ে উঠেছে।

অন্যান্য অঙ্গরাজ্যের দিকে তাকালে দেখা যায়, ওহাইওর প্রথম নারী গভর্নর হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন প্রাক্তন স্বাস্থ্য বিভাগের পরিচালক অ্যামি অ্যাক্টন। মিনেসোটার প্রথম নারী গভর্নর হয়েছেন দীর্ঘদিনের সিনেটর অ্যামি ক্লোবুচার। ক্যালিফোর্নিয়ার ইতিহাসে প্রথম নির্বাচিত লাতিনো গভর্নর হতে যাচ্ছেন জেভিয়ার বেসেরা, যিনি ইতিপূর্বে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্যমন্ত্রী এবং ক্যালিফোর্নিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেলের পদে আসীন ছিলেন।

এছাড়া উইসকনসিনে ডেভিড ক্রাউলি প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ গভর্নর হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন, যিনি এর আগে মিলওয়াকি কাউন্টির নির্বাহী হিসেবে কাজ করেছেন। টেক্সাসের রাজনীতিতেও বড় পরিবর্তন এসেছে; জিনা হিনোজোসা নির্বাচিত হয়েছেন প্রথম হিস্পানিক নারী গভর্নর হিসেবে। একইসঙ্গে তিনি ১৯৯০ সালের পর ওই অঙ্গরাজ্যের প্রথম ডেমোক্র্যাট গভর্নর হতে যাচ্ছেন।