যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদে পঞ্চম মেয়াদে সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন রাশিদা তালিব। মিশিগানের ১২তম কংগ্রেস আসন থেকে ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে তিনি ৭২ শতাংশের বেশি ভোট অর্জন করেন। বিপরীতে রিপাবলিকান প্রার্থী জেমস হুপার পান মাত্র ২৪ শতাংশের কিছু বেশি ভোট। মার্কিন ইতিহাসে তিনি একমাত্র ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত কংগ্রেস সদস্য হিসেবে বিশেষ পরিচিতি ধরে রেখেছেন।
রাশিদার রাজনৈতিক যাত্রা শুরু হয় ২০১৮ সালে, যখন তিনি এবং ইলহান ওমর প্রথমবারের মতো মুসলিম নারী হিসেবে কংগ্রেসের সদস্য হয়ে ইতিহাস গড়েন। ফিলিস্তিনিদের অধিকার এবং গাজায় ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডের কড়া সমালোচক হিসেবে তিনি পরিচিত। এই আপসহীন অবস্থানের কারণে অনেক সময় সহকর্মীদের তিরস্কার এবং রাজনৈতিক চাপের মুখে পড়তে হয়েছে তাঁকে। এমনকি ২০১৯ সালে ইসরায়েল সরকার তাঁর এবং ইলহান ওমরের ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল। সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও একসময় তাঁকে দেশ থেকে বহিষ্কার করার হুমকি দিয়েছিলেন।
১৯৭৬ সালে মিশিগানের ডেট্রয়েট শহরের এক দরিদ্র অভিবাসী পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন রাশিদা হারবি এলাবেদ। ১৪ ভাই-বোনের মধ্যে সবার বড় হওয়ায় শৈশব থেকেই ছোটদের দেখাশোনা এবং মা-বাবার দায়িত্ব নিতে হয়েছে তাঁকে। তাঁর বাবা-মা দুজনই ফোর্ড মোটর কোম্পানির কর্মী ছিলেন। আরবি ভাষায় কথা বলে বড় হওয়া রাশিদার জন্য ইংরেজি ছিল দ্বিতীয় ভাষা। শৈশবে হিজাব পরার কারণে তাঁর মাকে হেনস্তার শিকার হতে দেখে তিনি গভীরভাবে প্রভাবিত হন। পরবর্তীতে পারিবারিক ও ধর্মীয় পরিচয়ের প্রতি বৈষম্য দূর করতে তিনি রাজনীতিতে আসার প্রেরণা পান।
শিক্ষাজীবনে তিনি প্রথম সদস্য হিসেবে হাইস্কুল শেষ করেন এবং ১৯৯৮ সালে ওয়েইন স্টেট ইউনিভার্সিটি থেকে স্নাতক ও ২০০৪ সালে ওয়েস্টার্ন মিশিগান ইউনিভার্সিটি থেকে আইন বিষয়ে ডিগ্রি লাভ করেন। রাজনীতির আগে তিনি ডিয়ারবর্নের আরব কমিউনিটি সেন্টার ফর ইকোনমিক অ্যান্ড সোশ্যাল সার্ভিসেসে (অ্যাকসেস) এবং সুগার ল সেন্টার ফর ইকোনমিক অ্যান্ড সোশ্যাল জাস্টিসে আইনজীবী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। সেখানে তিনি নিম্ন আয়ের মানুষের ক্ষমতায়ন এবং পরিবেশ দূষণ রোধে কাজ করেন। বিশেষ করে ডেট্রয়েট নদীর তীরের বিষাক্ত ধুলো শনাক্ত করে পরিবেশগত পরিবর্তন আনতে তাঁর ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য।
রাশিদা তালিব তাঁর রাজনৈতিক লড়াইকে ব্যক্তিগত আবেগের সাথে যুক্ত করেছেন। তিনি জানান, তাঁর দুই ছেলের মুসলিম পরিচয় নিয়ে যে প্রশ্ন তোলা হয়, তার জবাব দিতেই তিনি নির্বাচনে লড়েন। তিনি নিজেকে সবার জন্য ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় নিয়োজিত একজন মা হিসেবে পরিচয় দিতে পছন্দ করেন। ২০১৯ সালে শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে তিনি ঐতিহ্যবাহী ফিলিস্তিনি পোশাক 'থোব' এবং ১৭৩৪ সালের কোরআনের একটি ইংরেজি অনূদিত কপি সাথে রেখে তাঁর জাতিগত ও ধর্মীয় পরিচয়ের প্রতি গর্ব প্রকাশ করেছিলেন। ২০১৬ সালে ট্রাম্পের একটি নির্বাচনী সভায় তাঁর সাহসের সাথে করা সমালোচনা তাঁকে সাধারণ মানুষের কাছে জনপ্রিয় করে তোলে, যদিও সেই সময় তাঁকে জোরপূর্বক সভা থেকে বের করে দেওয়া হয়েছিল।




