ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের পুরনো এক ঘুষের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে কেরল সরকার। কংগ্রেস শাসিত এই রাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রমেশ চেন্নিথালা গত বুধবার আইনজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনার পর এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। অভিযোগ করা হয়েছে যে, ২০০৬ সালে কেরল সরকারের পূর্তসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে এক সড়ক প্রকল্পের বকেয়া বিল পরিশোধের বিনিময়ে জ্ঞানেশ কুমার দুই কোটি রুপি ঘুষ দাবি করেছিলেন।
ঘটনার সূত্র ধরে জানা যায়, মালয়েশিয়ার একটি সংস্থার কর্মকর্তা লি সি বিনের কাছে এই অর্থ চাওয়া হয়েছিল। অভিযোগ অনুযায়ী, ঘুষ না দিলে পূর্ত দপ্তর বকেয়া টাকা আটকে রাখবে বলে হুমকি দেওয়া হয়। এর ফলে চরম মানসিক চাপে লি সি বিন আত্মহত্যা করেন এবং তাঁর সুইসাইড নোটে স্পষ্টত জ্ঞানেশ কুমারের নাম উল্লেখ করা হয়েছিল। সম্প্রতি কংগ্রেস নেতা এম বেনুগোপাল এবং ঠিকাদার সজন নামের এক ব্যক্তি এই বিষয়ে নতুন করে অভিযোগ দায়ের করেন। সজনের দাবি, পিএটি-আইবিএল নামক ভারত-মালয়েশিয়া যৌথ উদ্যোগের ওই প্রকল্পে তিনি নির্মাণসামগ্রী সরবরাহ করেছিলেন এবং লি সি বিন তাঁকে ঘুষ চাওয়ার কথা জানিয়েছিলেন।
২০০৭ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত এই বিষয়ে তদন্ত চললেও তা কোনো চূড়ান্ত পরিণতির দিকে যায়নি। অভিযোগকারীদের মতে, তৎকালীন রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে তদন্ত বন্ধ করা হয়েছিল এবং এর মধ্যেই জ্ঞানেশ কুমার কেন্দ্রীয় সরকারি চাকরিতে বদলি হয়ে যান। এখন কেরল সরকারের ‘ভিজিল্যান্স অ্যান্ড অ্যান্টি-করাপশন ব্যুরো’ এই পুরো বিষয়টি নতুন করে তদন্ত করবে। তদন্তের রিপোর্ট সন্তোষজনক হলে তাঁর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করার কথা ভাবছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
অন্যদিকে, নির্বাচন কমিশনারদের আইনি সুরক্ষা নিয়ে এক পৃথক আইনি লড়াই শুরু হয়েছে সুপ্রিম কোর্টে। ২০২৩ সালে প্রণীত একটি আইনের ১৬ নম্বর ধারা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে আরজেডির সাংসদ মনোজ ঝা এবং সমাজকর্মী অরুণ কুমার আগরওয়ালসহ আরও অনেকে। ওই ধারায় বলা হয়েছে, কমিশনারদের কোনো কাজের জন্য তাঁদের জীবদ্দশায় কোনো দেওয়ানি বা ফৌজদারি মামলা করা যাবে না। আবেদনকারীদের দাবি, এই আজীবন রক্ষাকবচ অসাংবিধানিক, কারণ এমনকি রাষ্ট্রপতি বা সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদেরও এমন সীমাহীন সুরক্ষা নেই। তাঁদের মতে, নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনতা জরুরি হলেও তাঁরা আইনি জবাবদিহির ঊর্ধ্বে হতে পারেন না। বিরোধীদের অভিযোগ, শাসক দলের স্বার্থ রক্ষায় এবং জবাবদিহি এড়াতে বিরোধী সদস্যদের বরখাস্ত করে এই আইন পাস করা হয়েছে। প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ এই বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকার ও নির্বাচন কমিশনকে নোটিশ পাঠিয়ে জবাব তলব করেছে। আগামী ১৮ ডিসেম্বর এই মামলার পরবর্তী শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।




