যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম বিভাগের সাম্প্রতিক উপাত্ত অনুযায়ী, দেশটির বেকারত্বের হার গত কয়েক মাসে ধারাবাহিকভাবে হ্রাস পেয়েছে। গত নভেম্বরে এই হার ছিল ৪.৫%, যা জুনে ৪.২% এবং জুলাইয়ে নেমে এসেছে ৪.১%-এ। ওয়াল স্ট্রিটের প্রত্যাশা অনুযায়ী, আগস্ট মাসের প্রতিবেদনেও এই হার ৪.১%-এ স্থির থাকবে এবং নতুন কর্মসংস্থান বাড়বে প্রায় ৫০ হাজার। তবে সরকারি এই ইতিবাচক চিত্রের পেছনে কিছু কাঠামোগত কারণ রয়েছে। অবসরপ্রাপ্ত 'বেবি বুমার' প্রজন্ম এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিবাসন কঠোর নীতির ফলে সামগ্রিক শ্রমবাজার সংকুচিত হয়ে আসায় বেকারত্বের হার কমছে বলে মনে করা হচ্ছে। এমনকি ২০২৫ সালের গ্রীষ্ম ও শরৎকালে দেখা গেছে, বেকারত্বের হার স্থিতিশীল রাখতে নতুন কর্মসংস্থান তৈরির প্রয়োজনীয়তা ঋণাত্মক হয়ে পড়েছিল এবং ২০২৮ সালেও এমন পরিস্থিতি হতে পারে বলে অর্থনীতিবিদরা আশঙ্কা করছেন।

বর্তমানে বেকারদের আবেদনের হারও বেশ কম, যা একটি 'কম নিয়োগ এবং কম ছাঁটাই'র বাজারের ইঙ্গিত দেয়। ট্রাম্প প্রশাসনের শুল্ক নীতি এবং ইরানের সঙ্গে সংঘাতের কারণে ব্যবসায়ীরা বর্তমানে সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। সরকারি বেকারত্বের হার এতটাই কম যে, ফেডারেল রিজার্ভের নীতি-নির্ধারকরা মনে করছেন অর্থনীতি এখন 'পূর্ণ নিয়োগ' (Full Employment) স্তরে পৌঁছেছে। জ্যাকসন হোল সম্মেলনে ফেডারেল রিজার্ভের চেয়ারম্যান কেভিন ওয়ার্শ এই বিষয়ে আলোকপাত করেন। ফলস্বরূপ, শ্রমবাজারকে সহায়তা করার পরিবর্তে ফেড এখন তাদের মূল মনোযোগ দিয়েছে মুদ্রাস্ফীতি দমনের দিকে।

তবে লুডভিগ ইনস্টিটিউট ফর শেয়ারড ইকোনমিক প্রসপারিটি (LISEP) এই চিত্রটিকে খুব একটা ইতিবাচক হিসেবে দেখছে না। তাদের 'ট্রু রেট অফ আনএমপ্লয়মেন্ট' বা প্রকৃত বেকারত্বের পরিমাপে দেখা যাচ্ছে 'কার্যকরী বেকারত্ব' (Functionally Unemployed) ক্রমাগত বাড়ছে। এই পরিমাপে কেবল বেকারদের নয়, বরং যারা অনিচ্ছাসত্ত্বে খণ্ডকালীন কাজ করছেন এবং যারা দারিদ্র্যসীমার নিচে মজুরি পাচ্ছেন, তাদেরও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। জুলাই মাসে এই হার টানা চতুর্থবারের মতো বৃদ্ধি পেয়ে ২৪.৯%-এ পৌঁছেছে, যা গত মার্চের তুলনায় ১.৩ শতাংশ বেশি। এছাড়া শ্রমবাজারের বাইরে চলে যাওয়া ব্যক্তিদেরসহ মোট কর্মক্ষম জনসংখ্যার ৫৩.৮% এখন কার্যকরীভাবে নিযুক্ত নন, যা বছরের শুরু থেকে ০.৮ শতাংশ বেড়েছে।

LISEP-এর চেয়ারম্যান জিন লুডভিগ ২০ আগস্ট এক বিবৃতিতে জানান, শিরোনামের বেকারত্ব হার কমলেও কার্যকরী বেকারত্ব বৃদ্ধি এবং শ্রমবাজারে অংশগ্রহণের হার হ্রাস পাওয়া নির্দেশ করে যে শ্রমবাজার তার শক্তি হারাচ্ছে। জাতিগত ও লিঙ্গভেদে এই বৈষম্য আরও স্পষ্ট। জুলাই মাসে কৃষ্ণাঙ্গ শ্রমিকদের কার্যকরী বেকারত্বের হার ২৭.৩%-এ স্থির থাকলেও শ্বেতাঙ্গদের ক্ষেত্রে তা ০.৬ শতাংশ বেড়ে ২৩.৮% হয়েছে। অন্যদিকে হিস্পানিকদের ক্ষেত্রে এই হার ১.৫ শতাংশ কমে ২৬.৭%-এ নেমেছে। লিঙ্গভেদে দেখা গেছে, পুরুষদের হার ০.৯ শতাংশ কমে ১৯.৫% হলেও নারীদের ক্ষেত্রে তা ১.৬ শতাংশ বেড়ে ৩১%-এ পৌঁছেছে, যা ২০২১ সালের মার্চের পর সর্বোচ্চ।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (AI) উত্থানের ফলে নির্মাণ এবং দক্ষ কারিগরি পেশায় ব্যাপক চাহিদা তৈরি হয়েছে, যেখানে ঐতিহ্যগতভাবেই পুরুষদের প্রাধান্য বেশি। বিপরীতে, পারিবারিক যত্ন পরিষেবা খাতের সংকটের কারণে অনেক নারী তাদের ক্যারিয়ার থেকে দূরে সরে যেতে বাধ্য হয়েছেন। জিন লুডভিগ সতর্ক করে বলেছেন, একটি শক্তিশালী শ্রমবাজারে ভালো কাজ এবং উচ্চ মজুরির সুযোগ মানুষকে কর্মক্ষেত্রে উৎসাহিত করার কথা। কিন্তু যখন উল্টো চিত্র দেখা যায়, তখন বুঝতে হবে মানুষ তাদের প্রয়োজনীয় সুযোগ খুঁজে পাচ্ছে না, যা সামগ্রিক অর্থনীতির জন্য চিন্তার বিষয়।