৩১ বছর বয়সেই কোটিপতি হয়েছেন টিম আর্মু। এখন তিনি বলছেন, তরুণ প্রজন্মের চাকরির বাজারের কঠিন পরিস্থিতি ও এআই নিয়ে হতাশা তাঁর কাছে অজুহাত বলে মনে হচ্ছে। ফরচুনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, এখনই ধনী হওয়ার সবচেয়ে সহজ সময়। "এটাই ইতিহাসের সবচেয়ে বড় সম্পদ সৃষ্টির যুগ," বলেছেন আর্মু। "অনেক তরুণ যখন বলে 'আমি বিরক্ত', তখন আমার খারাপ লাগে। এত বড় প্রযুক্তি হাতে পেয়ে বিরক্ত হওয়া যায়? এটাই ইতিহাসের সেরা প্রযুক্তি, অথচ তোমরা সেটাকে গুরুত্ব দিচ্ছ না।"
আর্মু আরও বলেন, ২০২৬ সালে সফল হওয়ার জন্য সবচেয়ে স্পষ্ট পথ হলো এআই ব্যবহার করে ছোট ছোট প্রকল্প তৈরি করা। তবে এই সহজ পথে পৌঁছানো তাঁর জন্য মোটেও সহজ ছিল না। শিশু হিসেবে তাঁকে ঘানায় দাদির কাছে পাঠানো হয়েছিল, যেখানে জীবনের শুরুটা ছিল অনিশ্চিত ও বিপজ্জনক। পরে লন্ডনে ফিরে এসে তিনি একটি কাউন্সিল এস্টেটে বেড়ে ওঠেন, যেখানে ছিল গ্যাং সহিংসতা ও ছুরি হামলার ভয়। কোনো অর্থ, পরিচিতি বা স্থিতিশীলতা ছাড়াই ১৪ বছর বয়সে টিউশন সার্ভিস দিয়ে ব্যবসা শুরু করেন তিনি। মাত্র ছয় সপ্তাহে সেটি ৬৫ জন শিক্ষক পর্যন্ত পৌঁছে যায়। ১৭ বছর বয়সে তাঁর প্রথম প্রতিষ্ঠান এন্টারপ্রেনার এক্সপ্রেস বিক্রি করে দেন হরাইজন মিডিয়ার কাছে।
২০১৭ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় বর্ষে থাকাকালীন তিনি প্রতিষ্ঠা করেন ইনফ্লুয়েন্সার মার্কেটিং এজেন্সি ফ্যানবাইটস। যুক্তরাজ্য সরকার, ডেলিভারু ও স্যামসাংয়ের মতো প্রতিষ্ঠান ছিল এর ক্লায়েন্ট। ২০২২ সালে ব্রেইনল্যাবস সেই প্রতিষ্ঠানটি আট অঙ্কের অঙ্কে কিনে নেয়, তখন আর্মুর বয়স ছিল মাত্র ২৭ বছর। এখন তিনি নিজের কথা মতো কাজও করছেন। সম্প্রতি তিনি লেগন ফান্ড চালু করেছেন, যেখানে সংখ্যালঘু উদ্যোক্তাদের এআই স্টার্টআপের জন্য নিজের ৫০ লাখ পাউন্ড (প্রায় ৬৭ লাখ ডলার) বিনিয়োগ করেছেন। আর্মুর মতে, আগে সম্পদ তৈরির ঢেউ ছিল সোশ্যাল মিডিয়া, এখন সেই ঢেউ এআই। চ্যাটজিপিটি বা ক্লডের মতো টুল প্রায় বিনামূল্যে শেখা যায়, তাই কারও অজুহাত থাকার কথা নয়।
এদিকে কর্পোরেট চাকরি থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে জেন জেড প্রজন্ম। এআই-এর কারণে এন্ট্রি লেভেল নিয়োগ কমেছে, ফলে অনেক স্নাতক শত শত আবেদন করেও চাকরি পাচ্ছে না। তবে আর্মু বলছেন, আগের চেয়ে এখন স্বাধীনভাবে ব্যবসা শুরু করা অনেক সহজ। আগে দোকান খুলতে বা বিজ্ঞাপন দিতে ভাড়া ও খরচ লাগত, এখন ইন্টারনেটে ওয়েবসাইট বানিয়ে, টিকটকে বিক্রি করে, জুমে ক্লায়েন্টের সাথে কথা বলে ব্যবসা চালানো যায়। ক্যারিয়ারশিফটার্সের প্রধান কোচ নাতাশা স্ট্যানলি বলেছেন, উদ্যোক্তা জগতে প্রবেশের সুযোগ এখন অনেক বেশি গণতান্ত্রিক। ২৪ বছর বয়সী চেজ গ্যালাঘের, যাঁর ল্যান্ডস্কেপিং ব্যবসা বছরে ১৫ লাখ ডলার আয় করে, বলেছেন ফোনের মাধ্যমেই তিনি ব্যবসার বিপণন করেছেন, যাতে কোটি টাকার বেশি আয় হয়েছে।
লিংকডইনের তথ্য অনুযায়ী, জেন জেড-এর মধ্যে দ্বিতীয় দ্রুত বর্ধনশীল চাকরির শিরোনাম হলো 'প্রতিষ্ঠাতা'। ইনটুইটের ২০২৬ সালের উদ্যোক্তা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জেন জেড-এর ৪৩ শতাংশ ২০২৬ সালে ব্যবসা শুরুর কথা ভাবছেন। হুপ-এর প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী স্টিভেন শোয়ার্টজ বলেছেন, তাঁর প্রজন্ম কনসালটিং বা ব্যাংকিং চাকরি করতে চায় না, এমনকি নভোচারীও হতে চায় না; তারা অনলাইনে কনটেন্ট বানিয়ে গ্রাহক খুঁজতে চায়। তাঁর পরামর্শ, ব্যবসা করতে চাইলে শুধু শুরু করে দিতে হবে, ব্যর্থতার ভয় না করে সাফল্যের সম্ভাবনা নিয়ে ভাবতে হবে।



