চীনের কারখানা খাতের কার্যক্রম টানা দ্বিতীয় মাসের মতো সংকুচিত হয়েছে, যা দেশটির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি কমে আসার মধ্যেই সরকারের ওপর নতুন করে সমর্থন জোগানোর চাপ তৈরি করেছে। তবে আশার বিষয় হলো, সংকোচনের পরিমাণ বিশ্লেষকদের পূর্বাভাসের চেয়ে কিছুটা কম হয়েছে। সোমবার প্রকাশিত সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, এ অবস্থা দেশটির উৎপাদন খাতের সূচকে স্পষ্ট প্রতিফলিত হয়েছে।

দেশটির কারখানা কার্যক্রমের এই সংকোচন গত মাসেও দেখা গিয়েছিল, ফলে টানা দুই মাস ধরে এ ধারা অব্যাহত রয়েছে। অর্থনীতিবিদদের ধারণা ছিল, চলতি মাসে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হতে পারে, কিন্তু বাস্তবে তা ঘটেনি। সংকোচনের হার আগের মাসের তুলনায় কিছুটা মৃদু হলেও এটি ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে না। বরং এতে বোঝা যাচ্ছে যে, চীনের উৎপাদন খাত এখনো স্থিতিশীল পর্যায়ে পৌঁছাতে পারেনি।

চীনের অর্থনীতি বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি হওয়ায় এর প্রতিটি ঘাটতি বিশ্বব্যাপী বাণিজ্য ও বিনিয়োগে প্রভাব ফেলে। বর্তমান সংকোচনের ধারা যদি আরও দীর্ঘায়িত হয়, তাহলে বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে যেসব দেশ চীনের তৈরি পণ্যের ওপর নির্ভরশীল, তাদের জন্যও এটি উদ্বেগের বিষয়।

দেশটির সরকার ইতোমধ্যে বেশ কিছু অর্থনৈতিক উদ্দীপনা কর্মসূচি ঘোষণা করেছে, কিন্তু এখনো প্রত্যাশিত ফল পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, উৎপাদন খাতের এই ধারাবাহিক সংকোচন সরকারকে আরও কার্যকর ও বড় পরিসরের পদক্ষেপ নিতে বাধ্য করবে। এছাড়া বৈশ্বিক চাহিদা দুর্বল থাকা, অভ্যন্তরীণ চাহিদা কমে যাওয়া এবং সম্পদ খাতের মন্দা এই সংকোচনের পেছনে মূল কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

তবে সংকোচনের হার প্রত্যাশার চেয়ে কম হওয়ায় কিছুটা স্বস্তি মিলেছে। এটি ইঙ্গিত দেয় যে, অর্থনীতি সম্পূর্ণ স্থবির হয়ে পড়েনি। বরং ধীরে ধীরে পুনরুদ্ধারের চেষ্টা চলছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আনতে পারলে সরকারের জন্য আরও বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি হবে। কারণ ক্রমবর্ধমান বেকারত্ব, ভোক্তাদের আস্থার অভাব এবং বিনিয়োগে স্থবিরতা সামাজিক ও রাজনৈতিক অস্থিরতাও ডেকে আনতে পারে।

চীনের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ইতোমধ্যে সুদের হার কমানোর মতো পদক্ষেপ নিয়েছে, কিন্তু এখনো তা পর্যাপ্ত নয় বলে মনে করছেন অনেকে। বিশেষজ্ঞদের মতে, উৎপাদন খাতকে চাঙ্গা করতে হলে সরবরাহ-পার্শ্বের সংস্কার, অবকাঠামো ব্যয় বৃদ্ধি এবং ছোট ও মাঝারি শিল্পগুলোর জন্য সহায়তা প্রয়োজন। এছাড়া বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে নীতিগত ধারাবাহিকতা ও স্বচ্ছতাও গুরুত্বপূর্ণ।

সামগ্রিকভাবে, চীনের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এখন একটি সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। সরকারের নেওয়া সিদ্ধান্তগুলো আগামী কয়েক মাসে দেশটির অর্থনীতির গতি নির্ধারণ করবে। বর্তমান পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য বেইজিংকে দ্রুত ও কৌশলগত পদক্ষেপ নিতে হবে, নাহলে সংকোচন দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার ঝুঁকি থাকবে।