যুক্তরাষ্ট্রের নিম্নআয়ের মানুষের জন্য রাষ্ট্র ও অঙ্গরাজ্যের যৌথ স্বাস্থ্যবীমা কর্মসূচি 'মেডিকেইড'-এর নিয়মে বড় ধরনের পরিবর্তন আসছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ২০২৫ সালের কর হ্রাস ও নীতি আইনের ফলে আগামী জানুয়ারি থেকে অনেক সুবিধাভোগীর জন্য কাজের বাধ্যবাধকতা কার্যকর হতে যাচ্ছে। তবে এই আইনের প্রয়োগ নিয়ে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে তীব্র মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে, বিশেষ করে রিপাবলিকান নেতৃত্বাধীন অঙ্গরাজ্যগুলো কেন্দ্রীয় আইনের চেয়েও কঠোর নিয়ম চাপিয়ে দিচ্ছে।
নতুন নিয়মে সুবিধা ধরে রাখতে হলে যোগ্য ব্যক্তিদের প্রতি মাসে অন্তত ৮০ ঘণ্টা কাজ বা স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে সময় দিতে হবে, অথবা অন্তত অর্ধেক সময় পড়াশোনা করতে হবে। তবে শারীরিক বা মানসিক অসুস্থতার কারণে যারা কাজ করতে অক্ষম, তাদের জন্য এই নিয়মে ছাড়ের ব্যবস্থা রয়েছে। বিতর্ক শুরু হয়েছে এই 'অক্ষমতা' প্রমাণের পদ্ধতি নিয়ে। কেন্দ্রীয় নিয়ম অনুযায়ী, প্রথম এক বছর আবেদনকারীর নিজস্ব ঘোষণাকে (self-attestation) ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করা সম্ভব। কিন্তু আইডাহো, ইন্ডিয়ানা, নিউ হ্যাম্পশায়ার, নর্থ ক্যারোলাইনা, ওহাইও এবং আরকানসাসসহ অন্তত ছয়টি অঙ্গরাজ্য শুরু থেকেই চিকিৎসকের দাপ্তরিক প্রমাণপত্র বাধ্যতামূলক করেছে।
স্বাস্থ্যনীতি বিশেষজ্ঞ এবং গবেষক সংস্থা KFF-এর পরিচালক জেনিফার টলবার্ট এই ব্যবস্থার কঠোর সমালোচনা করে জানিয়েছেন, অনেক মানুষ এতটাই দরিদ্র যে তারা চিকিৎসকের কাছে গিয়ে অসুস্থতার প্রমাণপত্র সংগ্রহ করার সামর্থ্য রাখেন না। অথচ সেই চিকিৎসকের প্রমাণপত্রই এখন মেডিকেইড পাওয়ার প্রধান শর্ত হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে প্রকৃত অভাবী মানুষরাই এই সুযোগ থেকে বঞ্চিত হতে পারেন। এই কঠোর অবস্থানের প্রতিবাদে ২৫টি অঙ্গরাজ্যের ডেমোক্র্যাটরা আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন।
অন্যদিকে, রিপাবলিকানদের দাবি, এই কঠোরতা প্রয়োজন জালিয়াতি রোধ করতে। 'ফাউন্ডেশন ফর গভর্নমেন্ট অ্যাকাউন্টেবিলিটি'-র ভাইস প্রেসিডেন্ট জোনাথন ইনগ্রামের মতে, নিজস্ব ঘোষণার ওপর নির্ভর করা মানেই হলো নিয়মের ফাঁক দিয়ে জালিয়াতাকে উৎসাহিত করা। তার মতে, সক্ষম প্রাপ্তবয়স্করা এই সুযোগ নিয়ে সরকারি খরচ বাড়িয়ে দিচ্ছে। মিসৌরির রিপাবলিকান প্রতিনিধি ড্যারিন চ্যাপেল মনে করেন, মানুষ প্রায়ই অসুস্থতার বিষয়ে মিথ্যা বলে, তাই দাপ্তরিক প্রমাণ ছাড়া কাউকে ছাড় দেওয়া উচিত নয়।
কংগ্রেসনাল বাজেট অফিসের ২০২৫ সালের হিসাব অনুযায়ী, এই নতুন পরিবর্তনের ফলে আগামী এক দশকে ফেডারেল সরকার প্রায় ৮৮৭ বিলিয়ন ডলার সাশ্রয় করবে, তবে প্রায় ৭৫ লক্ষ মানুষ স্বাস্থ্যবীমার সুবিধা হারাবেন। এই নতুন নিয়মটি মূলত ৪০টি অঙ্গরাজ্য এবং ডিসি-র সেই ২০ মিলিয়ন প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য প্রযোজ্য হবে যাদের ঘরে কোনো সন্তান নেই এবং যারা মেডিকেইড সম্প্রসারণের আওতায় আছেন।
প্রশাসনিক জটিলতা ইতিমধ্যে দৃশ্যমান হয়েছে। অ্যারিজোনায় দেখা গেছে, নতুন নিয়ম কার্যকর করার প্রক্রিয়ায় জটিলতার কারণে ২০২৫ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে প্রায় ৫৫ শতাংশ মানুষ এই সুবিধা হারিয়েছেন, যা পুরো দেশেই সর্বোচ্চ। এছাড়া অনেক অঙ্গরাজ্যকে তাদের কম্পিউটার সিস্টেম আধুনিক করতে কোটি কোটি ডলার ব্যয় করতে হচ্ছে। ক্যান্সার অ্যাকশন নেটওয়ার্কের পরিচালক লুসি ড্যাগনো মনে করেন, শুধুমাত্র রোগ নির্ণয়ের কোড দিয়ে একজনের কাজের ক্ষমতা নির্ধারণ করা অসম্ভব, কারণ একই রোগে কেউ কাজ করতে পারেন আবার কেউ পারেন না। শেষ পর্যন্ত এই নিয়মের বেড়াজালে পড়ে যোগ্য ব্যক্তিরাই স্বাস্থ্যসেবা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।




