গ্রিসের রাজধানী এথেন্সে অনুষ্ঠিত চতুর্থ ‘ইফেক্টিভ ডায়ালগ’ সম্মেলনে জলবায়ু পরিবর্তন এবং টেকসই উন্নয়নের বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান ও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা প্রদান করেছেন গ্রিসে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত নাহিদা রহমান সুমনা। ‘ডিসরাপশন অর ডেস্ট্রাকশন?’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত এই সম্মেলনের ‘ডিপ্লোমেসি ফর সাসটেইনেবিলিটি’ শীর্ষক প্যানেল আলোচনায় তিনি অংশ নেন। বৃহস্পতিবার এথেন্সের স্টেলিওস ফাউন্ডেশন কনফারেন্স হলে অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানে অস্ট্রেলিয়া, ফিনল্যান্ড এবং অস্ট্রিয়ার নারী রাষ্ট্রদূতেরা আরও উপস্থিত ছিলেন।
টিম সিমপ্র্যাক্সিস এবং ইকুইটি এমপাওয়ারমেন্ট চেঞ্জ (হোয়েন)-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই প্যানেলে অস্ট্রেলিয়ার রাষ্ট্রদূত অ্যালিসন ডানকান, ফিনল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত লীনা পিলভানাইনেন এবং অস্ট্রিয়ার রাষ্ট্রদূত গের্ডা ভোগল তাদের নিজ নিজ দেশের কূটনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি উপস্থাপন করেন। সম্মেলনের মূল আলোচনায় বৈশ্বিক সংকট, সামাজিক-রাজনৈতিক পরিবর্তন, জলবায়ু পরিবর্তন এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের মতো বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।
বক্তব্যের এক পর্যায়ে রাষ্ট্রদূত নাহিদা রহমান সুমনা ১৯৭১ সালে মর্যাদা ও আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকারের সংগ্রামের মধ্য দিয়ে স্বাধীন হওয়া বাংলাদেশের ইতিহাস এবং নিজস্ব জীবনসংগ্রামের কথা উল্লেখ করেন। তিনি টেকসই উন্নয়নের বৈশ্বিক সংজ্ঞার ক্ষেত্রে একটি বড় পার্থক্যের কথা তুলে ধরেন। তার মতে, ধনী ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রগুলো মূলত জ্বালানি রূপান্তর এবং কার্বন নিঃসরণ কমানোর অর্থায়নকে প্রাধান্য দেয়। তবে বাংলাদেশসহ ‘গ্লোবাল সাউথ’ বা দক্ষিণ গোলার্ধের দেশগুলোর জন্য টেকসই উন্নয়ন মানেই হলো অস্তিত্ব রক্ষা, উপকূলীয় এলাকার সুরক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বাস্তুচ্যুতি প্রতিরোধ এবং সহনশীল কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তোলা।
ভূ-রাজনৈতিক পরিবর্তনের এই সময়ে জলবায়ু অর্থায়ন এবং সামাজিক অন্তর্ভুক্তির মতো জরুরি ইস্যুগুলো যেন গুরুত্ব হারায়, সে বিষয়ে তিনি সতর্কবার্তা দেন। বিভিন্ন দেশের সম্পদ ও ঝুঁকির ভিন্নতা ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, কারো ক্ষেত্রে জ্বালানি রূপান্তর বা প্রাকৃতিক সম্পদের সঠিক ব্যবহার বড় চ্যালেঞ্জ, আবার কারো ক্ষেত্রে প্রাতিষ্ঠানিক সীমাবদ্ধতা প্রধান সমস্যা। বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হিসেবে তিনি চরম ভৌগোলিক ঝুঁকি এবং উচ্চ জনসংখ্যার ঘনত্বের কথা উল্লেখ করেন। তবে একই সঙ্গে তিনি জানান, দুর্যোগ মোকাবিলায় কয়েক দশকের অভিজ্ঞতা এবং স্থানীয় পর্যায়ে মানুষের সহনশীলতাই বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শক্তি।
আলোচনার শেষ পর্যায়ে দক্ষিণ এশিয়ার কাঠামোগত চ্যালেঞ্জের সঙ্গে গ্রিসের অবস্থানের সাদৃশ্য নিয়েও আলোচনা হয়। ইউরোপীয় নীতিনির্ধারণ, অভিবাসন সমস্যা, অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার এবং জলবায়ু ঝুঁকির সংযোগস্থলে অবস্থান করায় গ্রিসের পরিস্থিতি বাংলাদেশের মতো জলবায়ু ঝুঁকি থাকা দেশগুলোর সঙ্গে কিছুটা সংগতিপূর্ণ বলে উল্লেখ করা হয়।




