দেশের চার ধরণের জ্বালানি তেলের দাম লিটারে ২০ টাকা বৃদ্ধির পর নিত্যপণ্যের বাজারে তীব্র প্রভাব পড়েছে। নতুন দর অনুযায়ী ডিজেল ১৩৫ টাকা, কেরোসিন ১৫৫ টাকা, অকটেন ১৬৫ টাকা এবং পেট্রোল ১৬০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর ফলে পণ্য পরিবহনের ভাড়া এক লাফে বেড়ে যাওয়ায় পাইকারি ও খুচরা উভয় বাজারেই সবজি এবং অন্যান্য নিত্যপণ্যের দাম চড়ল। শুক্রবার ঢাকার কারওয়ান বাজার, টাউন হল বাজার ও মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেটে এই মূল্যবৃদ্ধির বাস্তব চিত্র দেখা গেছে।

বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, আটা ও ময়দার দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। মোড়কের প্রতি কেজি ময়দার দাম ৭০-৭৫ টাকা থেকে বেড়ে বর্তমানে ৮৫ টাকায় ঠেকেছে। একইভাবে মোড়কের আটার দাম ৬০-৬৫ টাকা থেকে বেড়ে এখন ৭০ টাকা। খোলা বাজারেও আটা ও ময়দার দাম ৪ শতাংশের কাছাকাছি বৃদ্ধি পেয়েছে। কোম্পানিগুলো নতুন মোড়কে আটা ও ময়দার খুচরা মূল্য যথাক্রমে ১৪০ ও ১৬০ টাকা নির্ধারণ করেছে। চালের বাজারেও প্রভাব পড়েছে; মাঝারি মানের পাইজাম ও আটাশ চাল প্রতি কেজি ৫৬-৫৮ টাকা থেকে বেড়ে ৬০-৬২ টাকায় পৌঁছেছে। ব্যবসায়ীদের দাবি, কুষ্টিয়া থেকে চাল আনার ট্রাক ভাড়া ৪-৫ হাজার টাকা বেড়ে যাওয়ায় এই দাম বৃদ্ধি অনিবাৰ্য হয়েছে।

সবজির বাজারে পরিস্থিতি আরও নাজুক। গোল বেগুনের দাম ১২০ টাকা থেকে বেড়ে ১৬০ টাকা এবং লম্বা বেগুনের দাম ৮০ টাকা থেকে ১০০ টাকা কেজি হয়েছে। এছাড়া চিচিঙ্গা, ঝিঙা, পটল ও করলার দাম প্রতি কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। এমনকি কমতে থাকা কাঁচামরিচের দাম পুনরায় বেড়ে প্রতি কেজি ১৬০ থেকে ১৮০ টাকায় ঠেকেছে। পাইকারি বিক্রেতাদের মতে, পঞ্চগড় থেকে পণ্য আনতে ট্রাক ভাড়া ২৬ হাজার থেকে বেড়ে ৩১ হাজার টাকা হওয়ায় এই মূল্যবৃদ্ধি ঘটেছে। তবে খুচরা বিক্রেতাদের দাবি, পাইকারদের দেওয়া হিসাব সঠিক নয়, তারা আরও বেশি দামে পণ্য কিনছেন।

প্রোটিন ও দুগ্ধজাত পণ্যের দামও ঊর্ধ্বমুখী। খামারের লাল ডিমের দাম ডজন প্রতি ১৫০ টাকা থেকে বেড়ে ১৬০ টাকা হয়েছে। মোড়কের তরল দুধের দাম লিটারে ১০ টাকা বেড়েছে, যার ফলে মিল্কভিটা ও প্রাণ ডেইরির মতো ব্র্যান্ডের দুধের দাম এক লিটারে ১১০-১১৫ টাকায় পৌঁছেছে। মিল্কভিটা সভাপতি এস এম আমীর হামজা শাতিল জানান, গ্যাস সংকট, বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি এবং গো-খাদ্যের মূল্য বাড়ার কারণে দুধ প্রক্রিয়াজাত ও পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় দাম বাড়াতে হয়েছে।

অন্যদিকে, সয়াবিন তেলের বাজারে পুনরায় সংকট দেখা দিয়েছে। সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে খুচরা বাজারে দুই লিটার ও পাঁচ লিটার বোতলের দাম বেশি রাখা হয়েছে। কিছু এলাকায় এক ও দুই লিটারের বোতলের সরবরাহ কমে যাওয়ায় ক্রেতাদের ভোগান্তি বাড়ছে। তবে এই অস্থিরতার মাঝেও ব্রয়লার ও সোনালি মুরগির দাম স্থিতিশীল রয়েছে।

বাজারের এই পরিস্থিতি নিয়ে ক্রেতাদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ বিরাজ করছে। অনেক ভোক্তার অভিযোগ, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর কথা বলে ব্যবসায়ীরা অহেতুক পণ্যের দাম বাড়িয়ে মুনাফা লুটছেন। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমলেও দেশে তা না কমিয়ে বরং দাম বাড়ানোর প্রবণতাকে তারা প্রশ্নবিদ্ধ করছেন।