জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে মতামত প্রকাশ করায় শোকজ করা হয়েছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের এক নেতাকে। সংশ্লিষ্ট নেতা সাজ্জাদ হোসেন ওরফে হৃদয় বর্তমানে ওই শাখা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। রোববার দিবাগত রাতে সংগঠনের কেন্দ্রীয় সংসদ তাঁকে এই কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠায়। কেন্দ্রীয় সংসদের দপ্তর সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলমের স্বাক্ষরিত ওই নোটিশে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ আনা হয়েছে।

ঘটনাটি শুরু হয় রোববার রাত সাড়ে ১১টার দিকে, যখন সাজ্জাদ হোসেন তাঁর ফেসবুক প্রোফাইলে তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদ জানিয়ে একটি লেখা পোস্ট করেন। তিনি সেখানে উল্লেখ করেন যে, ছাত্ররাজনীতির শুরু থেকেই তিনি বিএনপি-র যে কর্মসূচিগুলোতে যুক্ত ছিলেন, তার বড় অংশই ছিল তেল, গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির বিরুদ্ধে। বর্তমান মূল্যবৃদ্ধির বিষয়েও তিনি তাঁর তীব্র প্রতিবাদ জানান। এই পোস্টের পরপরই কেন্দ্রীয় সংসদ থেকে তাঁকে শোকজ করা হয়।

নোটিশে বলা হয়েছে, দায়িত্বশীল পদে থেকেও সাংগঠনিক নিয়ম লঙ্ঘন করার কারণে তাঁর বিরুদ্ধে কেন স্থায়ী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, তা আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে লিখিতভাবে জানাতে হবে। এছাড়া ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম এবং সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন-এর নির্দেশ অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে তাঁদের সামনেই এই ব্যাখ্যা প্রদান করতে হবে সাজ্জাদ হোসেনকে।

এই বিষয়ে সাজ্জাদ হোসেন জানিয়েছেন, তিনি সংগঠনের প্রতি পূর্ণ অনুগত এবং যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থিত হয়ে তাঁর ব্যাখ্যা প্রদান করবেন। অন্যদিকে, শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল নোমান জানান, শোকজ করার বিষয়টি তিনি জানেন, তবে এর পেছনে কেবল ফেসবুক পোস্টই মূল কারণ কি না, সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত নন।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে দেশের সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে, যা গতকাল দিবাগত রাত ১২টা থেকে কার্যকর হয়। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ডিজেলের দাম প্রতি লিটারে ১১৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৩৫ টাকা করা হয়েছে। পাশাপাশি পেট্রলের দাম ১৪০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৬০ টাকা এবং অকটেনের দাম ১৪৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৬৫ টাকা করা হয়েছে। এছাড়া কেরোসিনের দাম লিটারে ১৩৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৫৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। জ্বালানি বিভাগের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের অস্বাভাবিক দাম বাড়লেও গত পাঁচ মাস দেশে দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছিল এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশের তেলের দাম এখনও অনেক কম।