সম্প্রতি জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় জাতীয় সংসদে কোনো কার্যকর আলোচনা কিংবা সাধারণ মানুষের সাথে যথাযথ মতবিনিময় করা হয়নি বলে অভিযোগ তুলেছে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি)। শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণে এক মানববন্ধনের আয়োজন করে দলটি এই অভিযোগ উত্থাপন করে। তাদের মূল দাবি হলো, জ্বালানি তেলের বর্তমান মূল্যবৃদ্ধি অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে এবং বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) লাভ-লোকসান ও আয়-ব্যয়ের বিস্তারিত হিসাব জনগণের সামনে প্রকাশ করতে হবে।

মানববন্ধনের সময় জেএসডির সাধারণ সম্পাদক শহীদ উদ্দিন মাহমুদ বলেন, জ্বালানির দাম বাড়ানোর মতো সংবেদনশীল বিষয়ে কোনো গণশুনানি বা জনগণের সঙ্গে আলোচনা করা হয়নি। অথচ এই সিদ্ধান্তের ফলে অর্থনৈতিক চাপের মুখে পড়তে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। তিনি মনে করেন, এমন সিদ্ধান্ত কেবল প্রশাসনিক নির্দেশের মাধ্যমে চাপিয়ে দেওয়া উচিত নয়; বরং এর পেছনে থাকা কারণ ও দায়বদ্ধতা জনগণের কাছে পরিষ্কার করা প্রয়োজন।

বিপিসির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে শহীদ উদ্দিন মাহমুদ বলেন, এই প্রতিষ্ঠানটি যদি প্রকৃতপক্ষে জনসেবামূলক হয়, তবে কেবল মুনাফা অর্জনই তাদের প্রধান লক্ষ্য হতে পারে না। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম হ্রাস পেলে অর্জিত মুনাফা ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে সুরক্ষা দেওয়া উচিত। কেবল দাম বাড়লেই সেই বোঝা জনগণের ওপর চাপিয়ে দেওয়া অন্যায়। তিনি বিপিসির বর্তমান আমদানি ও পরিচালন ব্যয়সহ অতীতের মুনাফার সঠিক হিসাব প্রকাশের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে, আমলাতান্ত্রিক মানসিকতার বাইরে গিয়ে শ্রমিক, কৃষক, ভোক্তা এবং শিল্প খাতের প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্ত করে একটি নতুন জ্বালানি নীতি তৈরির প্রস্তাব দেন তিনি।

অন্যদিকে, জেএসডির সহসভাপতি মোহাম্মদ সিরাজ মিয়া তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, তেলের মূল্যবৃদ্ধি সীমিত আয়ের মানুষের জীবনযাত্রাকে আরও দুর্বিষহ করে তুলেছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, রাষ্ট্রীয় মূল্যনীতি নির্ধারণের ক্ষেত্রে কেবল অর্থনৈতিক হিসাবের ভারসাম্য রক্ষা করলেই হবে না, বরং সামাজিক ন্যায়বিচার এবং মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বিষয়টিও গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করতে হবে।

এই কর্মসূচিতে আরও অংশগ্রহণ করেন এবং বক্তব্য প্রদান করেন জেএসডি নেতা কে এম জাবির, মাইনুর রহমান, কামাল উদ্দিন পাটোয়ারী, সৈয়দ বেলায়েত হোসেন, মোহাম্মদ নাসিম, নুরুল আমিন এবং এস এম সামছুল আলমসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।