মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান অস্থিরতার প্রভাবে দেশের জ্বালানি খাতে বড় ধরনের আর্থিক চাপ তৈরি হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর জানিয়েছেন, এই সংকটের কারণে গত আট মাসে জ্বালানি খাতে অতিরিক্ত ৪১২ কোটি ডলার ব্যয় করতে হয়েছে রাষ্ট্রকে। তবে এই প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও জ্বালানি হাব হিসেবে মাতারবাড়ী এলাকাকে গড়ে তোলার পরিকল্পনা অব্যাহত রাখা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

সোমবার ঢাকার উত্তরায় বিজিএমইএ কমপ্লেক্সে তৈরি পোশাক কারখানায় পরিবেশগত, সামাজিক ও সুশাসনসংক্রান্ত (ইএসজি) কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ এবং সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে একটি নতুন প্ল্যাটফর্মের উদ্বোধন করেন রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। এই বিশেষ উদ্যোগের সাথে প্রাথমিকভাবে ৩২৬টি প্রতিষ্ঠান যুক্ত হয়েছে। অনুষ্ঠানে তিনি সতর্ক করে বলেন, বর্তমানে বৈশ্বিক বাজারে কেবল পণ্যের দাম কমিয়ে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা সম্ভব নয়; বরং আগামী প্রজন্মের কথা মাথায় রেখে পরিবেশগত মানদণ্ড বজায় রাখা এখন সময়ের দাবি।

বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার বিভিন্ন সংস্কার কার্যক্রম গ্রহণ করেছে বলে জানান উপদেষ্টা। বিশেষ করে করনীতির ক্ষেত্রে আগামী পাঁচ বছরের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়াতে সহায়ক হবে। বিজিএমইএ-র সভাপতি মাহমুদ হাসান খান এই অনুষ্ঠানে জানান, তাঁরা সংগঠনের সদস্য কারখানাসমূহে ইএসজি অনুসরণ বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনা করছেন, যা বাস্তবায়নে বিকেএমইএ-র সাথে আলোচনা করা হবে। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ এলডিসি থেকে উত্তরণের সময়সীমা বৃদ্ধি পেলে এই প্রস্তুতিমূলক কাজগুলো করার জন্য আরও সুযোগ পাওয়া যাবে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান এম মাসরুর রিয়াজ জানান, আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের চাহিদায় বড় পরিবর্তন এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ৭৩ শতাংশ এবং ইউরোপের ৭০ শতাংশ ক্রেতা এখন পরিবেশবান্ধব ব্যবসার প্রতি আগ্রহী এবং পণ্য উৎপাদনে কার্বন নিঃসরণের পরিমাণ জানতে চান। ফলে ভারত ও ভিয়েতনামের মতো দেশগুলোর সাথে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে বাংলাদেশে ইএসজি অনুসরণ করা এখন অপরিহার্য হয়ে পড়েছে। এছাড়া ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূত ক্রিশ্চিয়ান ব্রিক্স মোলার মনে করেন, এই ধরণের উদ্যোগ বাংলাদেশের উৎপাদন খাতের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতাকে আরও বাড়িয়ে তুলবে। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব গভর্ন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের গবেষণা পরিচালক মুন্সী সোলায়মান।