ইরানে চলমান যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম আকাশচুম্বী হওয়ায় বিমান টিকিটের দাম দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে জ্বালানির দাম ভবিষ্যতে কমলেও বিমান ভাড়া আগের স্তরে ফিরবে কি না, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বৃহত্তম এয়ারলাইনস ডেল্টা-র সিইও এড বাস্টিয়ান। সিএনবিসি-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, যাত্রীদের চাহিদার স্থিতিস্থাপকতার কারণে উচ্চমূল্যের টিকিটও মানুষ কিনছেন, ফলে এই বাড়তি ভাড়া দীর্ঘমেয়াদে বজায় থাকতে পারে।

বাস্টিয়ান জানান, তৃতীয় প্রান্তিকে জেট ফুয়েলের খরচ ৬০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যার আর্থিক প্রভাব প্রায় ১.৬ বিলিয়ন ডলার। সাধারণত এত বড় ধরণের জ্বালানি ধাক্কায় বিমান সংস্থাগুলো চরম সংকটে পড়ে, কিন্তু এবারও ডেল্টার মুনাফা মোটামুটি স্থিতিশীল ছিল, যা তাকে অবাক করেছে। জুলাই মাসে তিনি উল্লেখ করেছিলেন যে, জ্বালানি খরচের ৬০ শতাংশ গ্রাহকদের ওপর চাপানো হয়েছিল এবং তৃতীয় প্রান্তিকের শেষ নাগাদ এটি ১০০ শতাংশে পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছিল।

আর্থিক প্রতিবেদনের তথ্যানুযায়ী, তৃতীয় প্রান্তিকে ডেল্টার সমন্বিত রাজস্ব ১৭.৬ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় ১৬ শতাংশ বেশি। যদিও এটি বিশ্লেষকদের ১৭.৬৭ বিলিয়ন ডলারের প্রত্যাশার সামান্য নিচে। তবে নজরকাড়া বিষয় হলো, কোম্পানিটির 'রেভিনিউ পার সিট মাইল' (প্রতি মাইল প্রতি সিটে আয়) ১৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা উচ্চ ভাড়া এবং শক্তিশালী চাহিদারই প্রতিফলন।

যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাভেল অ্যাসোসিয়েশনের তথ্যমতে, বিমান ভাড়া গত বছরের তুলনায় প্রায় ২৩ শতাংশ বেড়েছে। ব্যুরো অফ ট্রান্সপোর্টেশন স্ট্যাটিস্টিকসের হিসাব অনুযায়ী, দ্বিতীয় প্রান্তিকে অভ্যন্তরীণ ভ্রমণের গড় খরচ দাঁড়িয়েছে ৪৪৫.২৬ ডলার। জ্বালানি তেলের এই দাম বাড়ার মূল কারণ হিসেবে হরমুজ প্রণালীর মধ্য দিয়ে তেল পরিবহনে সৃষ্টি হওয়া বাধা এবং ইরান যুদ্ধকে দায়ী করা হচ্ছে। বর্তমানে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম প্রতি ব্যারেল ১০৮ ডলারে পৌঁছেছে, যা এক বছর আগের চেয়ে ৭০ শতাংশ বেশি।

বিমান সংস্থাগুলোর পরিচালন ব্যয়ের প্রায় ২১ শতাংশই ব্যয় হয় জ্বালানিতে। ইন্টারন্যাশনাল এয়ার ট্রান্সপোর্ট অ্যাসোসিয়েশনের মতে, জেট ফুয়েলের দাম গত বছরের তুলনায় ১০০ শতাংশের বেশি বেড়েছে। উদাহরণস্বরূপ, ইউএস গালফ কোস্টে জেট ফুয়েলের দাম প্রতি গ্যালন ৪.৩৪ ডলারে পৌঁছেছে, যেখানে এক বছর আগে এটি ছিল ২.১৯ ডলার। ইউরোপীয় কোম্পানিগুলোর মতো মার্কিন এয়ারলাইনসগুলো তেলের দামের ঝুঁকি মোকাবিলায় 'হেজিং' পদ্ধতি ব্যবহার করে না, ফলে বাড়তি খরচ সরাসরি যাত্রীদের পকেট থেকে আদায় করা হয়। তবে ডেল্টা একটি তেল রিফাইনারি কেনার ফলে কিছুটা সুবিধা পায়।

শুধুমাত্র ডেল্টাই নয়, সাউথওয়েস্ট এবং আমেরিকান এয়ারলাইন্সের প্রধানরাও জানিয়েছেন যে, উচ্চমূল্য সত্ত্বেও ভ্রমণপিপাসু মানুষের চাহিদাই এই খাতের মূল চালিকাশক্তি হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে এই চাপ পুরোপুরি উপেক্ষা করা সম্ভব হয়নি। ডেল্টা তাদের পুরো বছরের শেয়ার প্রতি মুনাফার পূর্বাভাস ৬.৫০-৭.৫০ ডলার থেকে কমিয়ে ৫.১০-৫.৬০ ডলারে নামিয়ে এনেছে এবং দুই বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো ওয়াল স্ট্রিটের প্রত্যাশিত মুনাফার লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে।