যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় ঋণ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কেবল শক্তিশালী অর্থনীতিই যথেষ্ট হবে না বলে সতর্কবার্তা দিয়েছেন কংগ্রেসনাল বাজেট অফিসের (CBO) পরিচালক ফিলিপ সোয়্যাগেল। মিনিয়াপলিস ফেডের এক সম্মেলনে তিনি জানান, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের মোট ঋণ ৪০ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে এবং সরকারি ঋণের পরিমাণ জিডিপির ১০০ শতাংশ। এই অনুপাতকে স্থিতিশীল রাখা বা কমিয়ে আনতে হলে অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদী ও ব্যাপক উত্থান প্রয়োজন, যা বর্তমান বাস্তবতায় প্রায় অসম্ভব। সিবিও-এর পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০৩৬ সালের মধ্যে ঋণ-জিডিপি অনুপাত বেড়ে ১২০ শতাংশ হতে পারে।

সোয়্যাগেল ব্যাখ্যা করেন যে, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি সরকারি রাজস্ব বৃদ্ধি করলেও এটি একটি জটিল প্রক্রিয়া। কারণ, সরকারি ব্যয় প্রবৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করে, যার ফলে মজুরি বৃদ্ধি পায় এবং পরিণামে সোশ্যাল সিকিউরিটির মতো খাতে ব্যয় আরও বেড়ে যায়। এছাড়া, শক্তিশালী অর্থনীতির ফলে সুদের হার বাড়ার প্রবণতা থাকে, যা ঋণের সুদ পরিশোধের খরচ আরও বাড়িয়ে দেয়। তাই তার মতে, কেবল প্রবৃদ্ধির ওপর নির্ভর করে আর্থিক ভারসাম্য ফিরিয়ে আনা বাস্তবসম্মত নয়; বরং রাজস্ব বৃদ্ধি এবং ব্যয়ের পরিবর্তন করা প্রয়োজন, যা সম্পূর্ণই রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের বিষয়।

মিনিয়াপলিস ফেড প্রেসিডেন্ট নীল কাশকারি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর মাধ্যমে প্রবৃদ্ধি বাড়ানোর সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন করলে সোয়্যাগেল জানান, সিবিও মোট ফ্যাক্টর প্রোডাক্টিভিটিতে (শ্রম, পুঁজি ও অন্যান্য উপকরণের দক্ষতা) বৃদ্ধি লক্ষ্য করেছে। আগামী বছরের শুরুতে প্রকাশিত অর্থনৈতিক পূর্বাভাসে এআই-এর প্রভাব অন্তর্ভুক্ত করা হবে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, বাজেট ঘাটতি এতটাই গভীর যে এআই-চালিত অতিরিক্ত প্রবৃদ্ধিও তা পুষিয়ে নিতে পারবে না।

ঋণের বোঝা সামাল দিতে কতটুকু প্রবৃদ্ধি প্রয়োজন, সে বিষয়ে সোয়্যাগেল একটি খসড়া হিসাব প্রদান করেন। তার মতে, সুদের হার ৪-৫ শতাংশ হলে নমিনাল জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৭-৮ শতাংশ এবং রিয়েল জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৫-৬ শতাংশ হতে হবে। অথচ দ্বিতীয় প্রান্তিকে রিয়েল জিডিপির প্রবৃদ্ধির হার ছিল মাত্র ২.২ শতাংশ এবং ওয়াল স্ট্রিটের আশাবাদী পূর্বাভাস অনুযায়ী এটি ২.৫ শতাংশের আশেপাশে থাকবে। এই হিসাব ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্টের ধারণার চেয়ে অনেক বেশি, যিনি মনে করেন ৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধির মাধ্যমেই এই সংকট কাটিয়ে ওঠা সম্ভব। অন্যদিকে, পেন হোয়ার্টন বাজেট মডেলের মতে, এই অনুপাত বজায় রাখতে এক দশকে গড় প্রবৃদ্ধি ৩.৫-৪ শতাংশ হওয়া প্রয়োজন।

সোয়্যাগেল আরও উল্লেখ করেন, সুদের হারের আকস্মিক বৃদ্ধি একটি 'ভয়াবহ আর্থিক চক্র' তৈরি করতে পারে। তিনি এটিকে একটি 'টার্বোচার্জারের' সাথে তুলনা করে বলেন, সুদের হারের ধাক্কা ঘাটতি বাড়ায়, যা ঋণের পরিমাণ বৃদ্ধি করে এবং পুনরায় সুদের হার বাড়িয়ে দেয়। বর্তমানে বন্ড মার্কেট এই ঋণ গ্রহণ করলেও দীর্ঘমেয়াদী ইল্ড বা মুনাফা গত ২৪ বছরের সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছেছে। এর পেছনে শক্তিশালী অর্থনীতি, ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনা, উচ্চ তেলের দাম এবং এআই খাতের বিশাল ঋণের চাপ কাজ করছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের ঋণের বিশাল আকারও এখানে বড় ভূমিকা পালন করছে।