জাতিসংঘের বার্ষিক সাধারণ অধিবেশনের প্রাক্কালে বিশ্বনেতাদের নিউইয়র্কে আগমনের মধ্য দিয়ে সংস্থাটির পরবর্তী মহাসচিব নির্বাচনের তোড়জোড় শুরু হয়েছে। এই পদের জন্য গত শুক্রবার নিরাপত্তা পরিষদে তৃতীয় দফার একটি অনানুষ্ঠানিক গোপন ভোটাভুটি অনুষ্ঠিত হয়। এক ঘণ্টার বেশি সময় ধরে চলা এই প্রক্রিয়ায় কোনো প্রার্থীই এককভাবে সুবিধাজনক অবস্থানে পৌঁছাতে পারেননি। বৈঠকের পর নিরাপত্তা পরিষদের বর্তমান সভাপতি এবং জাতিসংঘে নিযুক্ত ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত জেরোম বোনাফন্ট জানান যে, তৃতীয় দফার খসড়া ভোটাভুটি শেষ হয়েছে, তবে এর কোনো আনুষ্ঠানিক ফলাফল প্রকাশ করা হয়নি।

বর্তমান মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের মেয়াদ আগামী ডিসেম্বরে শেষ হতে চলেছে। তাঁর স্থলাভিষিক্ত হওয়ার দৌড়ে বর্তমানে আটজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর আগের দুই দফার অনানুষ্ঠানিক ভোটেও কোনো স্পষ্ট ফলাফল আসেনি। দ্বিতীয় দফার গোপন ভোটাভুটিতে গায়ানার সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ক্যারোলিন রদ্রিগেজ-বার্কেট সামান্য ব্যবধানে এগিয়ে ছিলেন। দ্বিতীয় ও তৃতীয় অবস্থানে ছিলেন যথাক্রমে কোস্টারিকার রেবেকা গ্রিনস্প্যান এবং আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) প্রধান আর্জেন্টিনার রাফায়েল গ্রোসি। অন্যান্য প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন সেনেগালের ম্যাকি স্যাল, ইকুয়েডরের ইভন এ-বাকি ও মারিয়া ফার্নান্দা এস্পিনোসা, চিলির মিশেল ব্যাসেলেট এবং উগান্ডার ওলারা ওতুন্নু। বর্তমান বৈশ্বিক সংকটের মুখে নিরাপত্তা পরিষদের বেশ কিছু সদস্য দেশ এবার একজন নারী মহাসচিব নিয়োগের ব্যাপারে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

নিয়োগ প্রক্রিয়ার নিয়ম অনুযায়ী, একজন প্রার্থীকে ১৫ সদস্যের নিরাপত্তা পরিষদের অন্তত ৯টি ভোট পেতে হয় এবং স্থায়ী পাঁচ সদস্য দেশের (যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, চীন, ফ্রান্স ও রাশিয়া) কারও কাছ থেকে ভেটো পাওয়া চলবে না। তবে বর্তমানে এই পরাশক্তিগুলোর মধ্যে তীব্র মতবিরোধ ও বিভক্তি বিরাজ করছে। আন্তর্জাতিক মহলে গুঞ্জন রয়েছে যে, এই পাঁচ দেশের পারস্পরিক সমঝোতার মাধ্যমে শেষ মুহূর্তে নতুন কোনো প্রার্থীর নাম সামনে আসতে পারে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কূটনীতিক সতর্ক করে বলেছেন, যদি এই প্রক্রিয়াটি অস্বচ্ছভাবে পরিচালিত হয়, তবে তা বড় ধরনের সংকট তৈরি করতে পারে। নিরাপত্তা পরিষদের বাধা পার হতে পারলে প্রার্থীর নাম চূড়ান্ত নিয়োগের জন্য সাধারণ পরিষদে পাঠানো হবে।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক কর্মকর্তা নির্দিষ্ট কোনো নাম উল্লেখ না করে বলেছেন, নতুন মহাসচিবকে অবশ্যই জাতিসংঘের মূল লক্ষ্য অর্জনে সচেষ্ট হতে হবে এবং প্রয়োজনীয় সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিতে হবে। তাঁর মতে, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও অতিসচেতন প্রগতিশীল (ওক) মতাদর্শ সংস্থার কার্যকারিতা কমিয়ে দিয়েছে, যা দূর করে বিশ্বশান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষায় গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

ভোটাভুটি প্রক্রিয়ায় ১৫ সদস্য দেশ গোপন ব্যালটে 'উৎসাহিত করা', 'নিরুৎসাহিত করা' অথবা 'মতামত নেই'—এই তিনটি বিকল্পের মাধ্যমে মূল্যায়ন করেন। কয়েক দফা অনানুষ্ঠানিক ভোটের পর স্থায়ী সদস্য দেশগুলোকে ভিন্ন রঙের ব্যালট দেওয়া হবে। এর মাধ্যমে বোঝা যাবে কোনো সদস্য দেশ ভেটো দিয়েছে কি না, তবে কোন দেশ নির্দিষ্টভাবে ভেটো দিয়েছে তা গোপন থাকবে।