জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে অংশ নিতে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক সফর করছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এই সফরের অংশ হিসেবে তিনি বিভিন্ন দেশের সরকারপ্রধান এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার শীর্ষ পর্যায়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক সম্পন্ন করেছেন। এসব আলোচনা ও বৈঠকের মূল কেন্দ্রবিন্দু ছিল বাংলাদেশ ও সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের প্রসার এবং দ্বিপক্ষীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা বিষয়ে সহযোগিতা বৃদ্ধি করা।

বৃহস্পতিবার জাতিসংঘ সদর দপ্তরে থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুলের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দুই নেতার মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার এবং বাণিজ্যের প্রসারে পারস্পরিক সহযোগিতার বিষয়ে বিস্তারিত মতবিনিময় হয়। একই দিনে দুপুরে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের সঙ্গে সচিবালয় ভবনে তাঁর বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এ আলোচনায় বাংলাদেশ ও জাতিসংঘের মধ্যকার বর্তমান সহযোগিতা এবং বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলো প্রাধান্য পায়। এছাড়া বৃহস্পতিবার সকালেই পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের সঙ্গে বৈঠকে বসেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সেখানে পারস্পরিক স্বার্থের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।

সফরের আগের দিনগুলোতেও ব্যস্ত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী। বুধবার জাতিসংঘের অধিবেশনের ফাঁকে ক্রোয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আন্দ্রেজ প্লেনকোভিচের সঙ্গে তাঁর বৈঠক হয়, যেখানে দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক উন্নয়ন এবং বিনিয়োগ বাড়ানোর সম্ভাবনা নিয়ে কথা হয়। ওইদিন সন্ধ্যায় ম্যানহাটনের ‘হাইয়াট গ্র্যান্ড সেন্ট্রাল নিউ ইয়র্ক’ হোটেলে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে আলোচনায় অংশ নেন তিনি।

এর আগে মঙ্গলবার তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের সঙ্গে বৈঠকে বসেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৈঠকে অর্থনীতি ও বাণিজ্যের পাশাপাশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বিদ্যমান সহযোগিতাকে আরও বিস্তৃত করার বিষয়ে আলোচনা হয়। এছাড়া ওই দিনই হাইতির প্রধানমন্ত্রী আলিক্স দিদিয়ে ফিস-আইমে এবং ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগের সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ হয়। ভুটানের প্রধানমন্ত্রীর আগে মালদ্বীপের ভাইস প্রেসিডেন্ট উজ হুসেইন মোহামেদ লতিফও বাংলাদেশ সরকারপ্রধানের সঙ্গে দেখা করেন।

রাষ্ট্রপ্রধানদের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অঙ্গনের প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বদের সঙ্গেও কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গা এবং জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনার (ইউএনএইচসিআর) বারহাম সালিহ। সামগ্রিকভাবে এই সফরটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের কূটনৈতিক অবস্থান সুদৃঢ় করা এবং অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব বাড়ানোর একটি প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে।