জার্মানির উদ্যোক্তাদের মধ্যে এক ধরণের 'সাফল্যের ভীতি' কাজ করে বলে মনে করেন মার্কিন বিলিয়নেয়ার বিনিয়োগকারী এবং পেপ্যালের সহ-প্রতিষ্ঠাতা পিটার থিল। তাঁর মতে, এই মানসিকতার কারণেই জার্মানিতে ইলন মাস্ক বা মার্ক জাকারবার্গের মতো বৈশ্বিক স্তরে ব্যবসা সম্প্রসারণ করার সাহস উদ্যোক্তারা দেখান না। সম্প্রতি 'এমডিমিটস' (MDMEETS) পডকাস্টে কথা বলার সময় তিনি এই পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন।
থিলের মতে, জার্মানিতে ঝুঁকি নেওয়ার প্রবণতা কম। কোনো ব্যবসা যখন সফল হতে শুরু করে, তখন উদ্যোক্তারা সেটিকে আরও বড় করার পরিবর্তে দ্রুত বিক্রি করে দেওয়া বা ব্যবসা থেকে বেরিয়ে আসার পথ খোঁজেন। ফলে গত কয়েক দশকে জার্মানিতে খুব কম সংখ্যক নতুন এবং প্রভাবশালী কোম্পানি গড়ে উঠেছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, জার্মানির অনেক ধনী ব্যক্তি কেবল উত্তরাধিকার সূত্রে সম্পদ পেয়েছেন, নতুন কোনো কোম্পানি গড়ে তুলে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেননি। থিলের হিসাব অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ ৫০ ধনীর মধ্যে জেনারেশন এক্স বা তার চেয়ে কম বয়সী অনেক ব্যক্তি নিজেই শূন্য থেকে সম্পদ তৈরি করেছেন, কিন্তু জার্মানির ক্ষেত্রে ওই বয়সের ধনীরা মূলত উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত সম্পদের ওপর নির্ভরশীল।
পরিসংখ্যানগতভাবেও জার্মানি পিছিয়ে পড়ছে। ফরচুন ৫০০ ইউরোপ তালিকার চার বছরের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো জার্মানিকে ছাড়িয়ে গেছে যুক্তরাজ্য। বর্তমানে এই তালিকায় যুক্তরাজ্যের ৭৬টি কোম্পানি থাকলেও জার্মানির রয়েছে ৭৩টি। এছাড়া উদ্ভাবনের ক্ষেত্রেও দেশটি পিছিয়ে যাচ্ছে। ইইউ-এর ২০২৬ সালের ইনোভেশন স্কোরবোর্ডে অস্ট্রিয়া, লাক্সেমবুর্গ এবং আয়ারল্যান্ডের পেছনে জার্মানির অবস্থান ১০ম। চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় জার্মানিতে 'ইউনিকর্ন' (১ বিলিয়ন ডলারের বেশি মূল্যের স্টার্টআপ) কোম্পানির সংখ্যা অত্যন্ত নগণ্য।
এক সময় জার্মানির অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি ছিল অটোমোবাইল শিল্প। ভক্সওয়াগেন, বিএমডব্লিউ এবং মার্সিডিজ-বেঞ্জ এর উজ্জ্বল উদাহরণ। তবে বর্তমান সময়ে এই জায়ান্ট কোম্পানিগুলো সংকটের মুখে। ভক্সওয়াগেন একসময় ফরচুন গ্লোবাল ৫০০ তালিকায় ষষ্ঠ স্থানে থাকলেও বর্তমানে তা নেমে এসেছে ১৩তম স্থানে। নির্গমন কেলেঙ্কারি এবং বিশেষ করে চীনা বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতাদের তীব্র প্রতিযোগিতার কারণে কোম্পানিটি বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ভক্সওয়াগেন সম্প্রতি এক কঠোর পুনর্গঠন পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে, যার আওতায় তাদের মডেলের সংখ্যা প্রায় অর্ধেক করা হবে এবং মোট ১ লক্ষ কর্মী ছাঁটাইয়ের কথা বলা হয়েছে। এছাড়া বিএমডব্লিউ এবং মার্সিডিজ-বেঞ্জের শেয়ার দর গত এক বছরে ২০ শতাংশের বেশি হ্রাস পেয়েছে, যা জার্মানির সামগ্রিক অর্থনৈতিক সক্ষমতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে।




