যুক্তরাষ্ট্রের সোশ্যাল সিকিউরিটির বার্ষিক জীবনযাত্রার ব্যয় সমন্বয় বা কস্ট-অফ-লিভিং অ্যাডজাস্টমেন্ট (COLA) খুব শীঘ্রই ঘোষণা হতে যাচ্ছে। বিভিন্ন হিসাব অনুযায়ী, মূল্যস্ফীতির বর্তমান প্রবণতার কারণে ২০২৭ সালে বেনিফিট বৃদ্ধির হার ২০২৩ সালের পর সর্বোচ্চ হতে পারে। যদিও অফিসিয়াল সংখ্যা আগামী মাসে জানানো হবে, তবে বিভিন্ন অ্যাডভোকেসি গ্রুপ ইতিমধ্যে তাদের পূর্বাভাস দিয়েছে। যেমন, সিনিয়র সিটিজেনস লিগ ২০২৭ সালের জন্য ৩.৫% এবং এএআরপি (AARP) ৩.৬% বৃদ্ধির প্রাক্কলন করেছে। এটি ২০২৬ সালের ২.৮% বৃদ্ধির তুলনায় অনেক বেশি, তবে ২০২৩ সালের ৮.৭% এর বিশাল লাফ স্পর্শ করবে না।

এই মূল্যস্ফীতির পেছনে বেশ কিছু ভূ-রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কারণ কাজ করছে। ইউক্রেন যুদ্ধে রুশ রিফাইনারিতে আক্রমণ এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরানের বিরুদ্ধে গৃহীত কঠোর পদক্ষেপের ফলে জ্বালানির দাম আকাশচুম্বী হয়েছে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের দাম গ্যালন প্রতি ৬.৫০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে, যা পরিবহন, কৃষি এবং উৎপাদন খাতের খরচ বাড়িয়ে দিয়েছে। এর পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর প্রসারে চিপস ও প্রযুক্তির কাঁচামালের সংকট তৈরি হয়েছে, যার ফলে অ্যাপলের মতো ইলেকট্রনিক্স কোম্পানিগুলো পণ্যের দাম বাড়িয়েছে। এছাড়া ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন শুল্ক নীতি এবং কানাডাসহ অন্যান্য দেশের ওপর আরোপিত লেভিস সামগ্রিক জীবনযাত্রার খরচ বাড়িয়ে দিয়েছে। বিমা, ইউটিলিটি এবং গরুর মাংসের দাম বাড়ার ফলে সুবিধাভোগীদের জীবনযাত্রার মান বজায় রাখতে সোশ্যাল সিকিউরিটিকে এখন আরও বেশি অর্থ প্রদান করতে হবে।

সারা দেশে বেনিফিটের হার এক হলেও, কর্মজীবনে যারা বেশি আয় করেছেন, তাদের জন্য এই বার্ষিক সমন্বয়ের পরিমাণ বেশি হয়। সোশ্যাল সিকিউরিটি প্রশাসনের তথ্যমতে, একজন অবসরপ্রাপ্ত কর্মীর গড় মাসিক বেনিফিট ২,০৭১ ডলার। তবে কিছু অঙ্গরাজ্যের গড় চেক জাতীয় গড়ের চেয়ে বেশি। মটলি ফুল-এর সংগৃহীত তথ্য অনুযায়ী, নিউ জার্সির অবসরপ্রাপ্তরা সর্বোচ্চ মাসিক ২,২৫৬ ডলার পান। ২০২৭ সালের পূর্বাভাস অনুযায়ী, তারা জাতীয় গড়ের চেয়ে বেশি (প্রায় ৭৯-৮১ ডলার) অতিরিক্ত সুবিধা পেতে পারেন। নিউ জার্সির পর তালিকায় রয়েছে কানেকটিকাট, ডেলাওয়্যার, নিউ হ্যাম্পশায়ার, ম্যারিল্যান্ড, ওয়াশিংটন, মিশিগান, মিনেসোটা, ম্যাসাচুসেটস এবং ইউটাহ।

অর্থনৈতিক বিশ্লেষক এড ইয়ারডেনি এই পরিস্থিতিকে 'জি-শেপড ইকোনমি' হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তার মতে, বর্তমানে মার্কিন অর্থনীতি মূলত বয়স্ক প্রজন্মের সঞ্চিত সম্পদের ওপর নির্ভরশীল। 'বেবি বুমার' প্রজন্মের মোট নিট সম্পদ বর্তমানে প্রায় ৯০ ট্রিলিয়ন ডলার, যা মোট মার্কিন হাউসহোল্ড সম্পদের প্রায় ৫২ শতাংশ। এছাড়া সাইলেন্ট জেনারেশনের ২০ ট্রিলিয়ন ডলারের সম্পদও তাদের সন্তানদের কাছে স্থানান্তরিত হচ্ছে। বুমাররা মোট স্টক এবং মিউচুয়াল ফান্ডের ৫৪% এবং রিয়েল এস্টেটের ৪১% নিয়ন্ত্রণ করে। ফলে উচ্চ সুদের হার এবং মূল্যস্ফীতি সত্ত্বেও তাদের খরচ করার ক্ষমতা কমেনি। বরং ট্রেজারি বন্ডের মতো নির্দিষ্ট আয়ের বিনিয়োগের ক্ষেত্রে উচ্চ সুদের হার তাদের জন্য আয়ের নতুন উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা সামগ্রিক ভোক্তা ব্যয় ধরে রাখতে সাহায্য করছে।