দীর্ঘ সাড়ে পাঁচ মাস পর পুনরায় পুরোদমে উৎপাদন শুরু করলেও মাত্র দুই দিনেই আবারও ইউরিয়া সার উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেল চট্টগ্রাম ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেডের (সিইউএফএল)। কারখানার উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার ভোরে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়। তবে কারখানায় অ্যামোনিয়া উৎপাদনের কাজ বর্তমানে অব্যাহত রয়েছে। মেরামত কার্যক্রম সম্পন্ন হলে আগামী শনিবার থেকে আবারও ইউরিয়া উৎপাদন শুরু হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার ভোর ৪টা ১০ মিনিটের দিকে ইউরিয়া প্ল্যান্টের রিসাইকেল সলিউশন (আরসি) পাম্পে কারিগরি সমস্যা দেখা দেয়, যার ফলে পুরো প্ল্যান্টটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। সিইউএফএল-এর উপ-ব্যবস্থাপক (প্রশাসন) সমীরণ মারমা জানান, একটি যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে সাময়িকভাবে উৎপাদন বন্ধ রাখা হয়েছে এবং দ্রুত মেরামতের কাজ চলছে। একইসঙ্গে কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (কেজিডিসিএল) থেকে জানানো হয়েছে যে, সিইউএফএল-কাফকো সরবরাহ লাইনের সংস্কার কাজের জন্য বৃহস্পতিবার থেকে শনিবার পর্যন্ত গ্যাসের চাপে কিছুটা ঘাটতি থাকতে পারে। এই পরিস্থিতি এবং যান্ত্রিক ত্রুটির কথা বিবেচনা করে ইউরিয়া উৎপাদন কেন্দ্রটি বন্ধ রেখে সংস্কার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

উল্লেখ্য যে, গ্যাস সংকটের কারণে গত ৪ মার্চ কারখানাটি বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। এরপর ২৫ আগস্ট থেকে পুনরায় গ্যাস সরবরাহ শুরু হয় এবং প্রয়োজনীয় সংস্কারের পর গত মঙ্গলবার থেকে অ্যামোনিয়া ও ইউরিয়া সার উৎপাদন পুরোদমে চালু হয়েছিল। পূর্ণ সক্ষমতায় চালানোর জন্য কারখানাটি প্রয়োজনীয় ৪৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পাচ্ছিল।

জাপানের কারিগরি সহায়তায় চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার রাঙাদিয়া এলাকায় প্রতিষ্ঠিত এই কারখানায় প্রাকৃতিক গ্যাসের মাধ্যমে ইউরিয়া সার ও অ্যামোনিয়া তৈরি করা হয়। ১৯৮৭ সালের ২৯ অক্টোবর পরীক্ষামূলকভাবে এবং ১৯৮৮ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু করে এই প্রতিষ্ঠানটি। গত দুই বছর ধরে গ্যাস সংকট এবং যান্ত্রিক জটিলতার কারণে এটি বিভিন্ন পর্যায়ে অচল ছিল। শুরুর দিকে এই কারখানার দৈনিক উৎপাদন ক্ষমতা ছিল ১ হাজার ৭০০ টন ইউরিয়া এবং ১ হাজার ১০০ টন অ্যামোনিয়া, যা বর্তমানে হ্রাস পেয়ে দৈনিক ১ হাজার ১০০ টন ইউরিয়া ও ৮০০ টন অ্যামোনিয়ায় দাঁড়িয়েছে।