এক কোটি টাকা মুক্তিপণ দাবি করে ব্যবসায়ী আজিবর রহমানকে অপহরণের দায়ে অভিযুক্ত চার আসামির জামিন বাতিল করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে আদালত। এই আসামিরা একটি ভুয়া ‘যৌথ অংশীদারি বিনিয়োগ চুক্তিপত্র’ দাখিল করে আদালতকে বিভ্রান্ত করে জামিন পেয়েছিলেন। তবে পরবর্তীতে ভুক্তভোগী ও পুলিশের তদন্তে ওই নথিটি সম্পূর্ণ জাল প্রমাণিত হয়। জালিয়াতি ও আদালতে মিথ্যা তথ্য দেওয়ার অভিযোগে এখন তাদের বিরুদ্ধে আলাদা মামলা দায়ের করা হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটে গত ৯ জুন, যখন ৫০ বছর বয়সী ব্যবসায়ী আজিবর রহমানকে উত্তরা পশ্চিম থানার ৩ নম্বর সেক্টরে একটি রেস্তোরাঁ থেকে ফেরার পথে সাদা গাড়িতে করে অপহরণ করা হয়। অপহরণকারীরা তাঁকে নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার ও সোনারগাঁসহ বিভিন্ন স্থানে আটকে রেখে অকথ্য নির্যাতন চালায় এবং স্বজনদের কাছে এক কোটি টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। এমনকি আজিবরের মেসেঞ্জারের মাধ্যমে তাঁর স্ত্রীর কাছে মারধরের ভিডিও কল পাঠিয়ে চাপ সৃষ্টি করা হয়। উদ্ধারের আগে তাঁর স্বজনরা বিভিন্নভাবে ২৫ লাখ টাকা অপহরণকারীদের হাতে পৌঁছে দিয়েছিলেন। অবশেষে পুলিশি অভিযানে হালান অটোস্ট্যান্ড এলাকা থেকে আজিবরকে উদ্ধার করা হয় এবং চার আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়।
কারাগারে থাকাকালীন ১৮ জুন আসামিপক্ষ একটি বিনিয়োগ চুক্তিপত্র দাখিল করে দাবি করে যে, আজিবরের সঙ্গে তাদের ব্যবসায়িক লেনদেন ছিল এবং পাওনা টাকা আদায়ের উদ্দেশ্যেই তাঁকে তুলে নেওয়া হয়েছিল। এই নথির ভিত্তিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত তাদের জামিন মঞ্জুর করেন। তবে ২৬ জুলাই মামলার শুনানিতে ভুক্তভোগী আজিবর রহমান এবং তাঁর পরিবার এই চুক্তির কথা সম্পূর্ণ অস্বীকার করেন। আদালতের নির্দেশে উত্তরা পশ্চিম থানার উপপরিদর্শক মেহেদী হাসান তদন্ত চালিয়ে জানতে পারেন, চুক্তিতে উল্লিখিত ‘আল-ফারাবি ট্রেডার্স লিমিটেড’ প্রতিষ্ঠানের মালিক শরিফুল ইসলামও এমন কোনো চুক্তির কথা জানেন না। তদন্ত প্রতিবেদনে স্পষ্ট হয় যে, মুক্তিপণ আদায়ের উদ্দেশ্যেই অপহরণ করা হয়েছিল এবং দাখিল করা চুক্তিপত্রটি ছিল জাল।
তদন্তের পর এবং ৯ আগস্ট নির্ধারিত তারিখে আদালতে হাজির না হওয়ায় আসামিদের জামিন বাতিল করা হয়। এর পাশাপাশি ১৩ আগস্ট ডিএমপির প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই মো. হেলাল উদ্দিন দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারায় প্রতারণা ও জালিয়াতির নতুন মামলা দায়ের করেন। এই নতুন মামলায় মহিউদ্দিন ও ওসমান নামে দুজনকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে, তবে বাকিরা এখনো পলাতক। আসামিপক্ষের আইনজীবী শাহ মোহাম্মদ শাহীন হাসান দাবি করেছেন, নথিটি আসল ছিল এবং পুলিশ যথাযথ জিজ্ঞাসাবাদ করেনি। তবে তদন্ত কর্মকর্তার মতে, আসামি আবদুল আলীম বাবু চুক্তির স্বপক্ষে কোনো প্রমাণ দেখাতে পারেননি। বর্তমানে কোতোয়ালি থানার এসআই জাহাঙ্গীর আলম এই জালিয়াতির মামলার তদন্ত পরিচালনা করছেন এবং আগামী ২১ সেপ্টেম্বর মামলার পরবর্তী ধার্য তারিখ নির্ধারিত হয়েছে।




