জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট বিপর্যয় পুরোপুরি এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব নয়, তবে সঠিক প্রস্তুতি এবং অভিযোজনের সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে এর ক্ষতিকর প্রভাব কমিয়ে আনা সম্ভব। বৃহস্পতিবার রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে আয়োজিত এক আলোচনায় এই মত প্রকাশ করেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু। দৈনিক বণিক বার্তা কর্তৃক আয়োজিত ‘জলবায়ু পরিবর্তন ও অর্থনীতির পুনর্বিন্যাস’ শীর্ষক এই অনুষ্ঠানে মন্ত্রী উপস্থিত ছিলেন।
মন্ত্রী তার বক্তব্যে জানান, জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাবগুলো এখন অত্যন্ত স্পষ্ট। অতিরিক্ত তাপমাত্রার কারণে শ্রমিকদের কাজের ক্ষমতা বা উৎপাদনশীলতা হ্রাস পাচ্ছে, অন্যদিকে অনিয়মিত বৃষ্টিপাতের ফলে কৃষকরা ফসলের ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। এছাড়া লবণাক্ততা বৃদ্ধির কারণে পানীয় জলের সংকট তৈরি হচ্ছে এবং কৃষিজমির উর্বরতা নষ্ট হচ্ছে। বন্যা, খরা, অতিবৃষ্টি কিংবা অনাবৃষ্টির মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগগুলো বর্তমান সময়ে আরও প্রকট হয়ে উঠেছে। তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন এবং এর ফলে সৃষ্ট সমস্যাগুলো সম্পর্কে আমরা সবাই অবগত। এই পরিস্থিতি থেকে সম্পূর্ণ মুক্তি পাওয়া সম্ভব না হলেও প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ নিলে ভবিষ্যতে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।
অর্থনীতির কথা উল্লেখ করে আবদুল আউয়াল মিন্টু বিশ্বব্যাংকের ৬ অক্টোবরের হালনাগাদ পূর্বাভাসের কথা জানান। সেখানে বলা হয়েছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি ৩.৪ শতাংশ হতে পারে। যদিও এটি কোনো চূড়ান্ত হিসাব নয়, তবে এই পূর্বাভাস দেশের অর্থনীতির সহনশীলতা বাড়ানোর তাগিদ মনে করিয়ে দেয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।
বাংলাদেশের অর্থনীতির মূল ভিত্তি হিসেবে কৃষিকে চিহ্নিত করে মন্ত্রী বলেন, কৃষি খাত কেবল খাদ্য সংস্থানের মাধ্যম নয়, বরং এটি গ্রামীণ কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দারিদ্র্য বিমোচন, বাজার স্থিতিশীল রাখা এবং সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার সাথে গভীরভাবে যুক্ত। তিনি উল্লেখ করেন, সেচ ব্যবস্থার উন্নতি হলেও কৃষি এখনো অনেকাংশে আবহাওয়ার ওপর নির্ভরশীল। দেশের শ্রমবাজারের চাহিদা মেটাতে প্রতি বছর ২০ থেকে ২২ লাখ মানুষের নতুন কর্মসংস্থানের প্রয়োজন, যার জন্য বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বহুমুখী উদ্যোগ গ্রহণ করা জরুরি।
একই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী সাইমুম পারভেজ বলেন, বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধিতে বাংলাদেশের ভূমিকা নগণ্য হলেও জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এই দেশ। ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, লবণাক্ততা এবং বাস্তুচ্যুতির মতো সমস্যাগুলো সাধারণ মানুষের জীবনকে বিপর্যস্ত করে তুলছে। তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল অর্থনীতি থেকে সরে এসে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ভিত্তিক অর্থনীতিতে রূপান্তর করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই রূপান্তর এবং সম্মিলিত প্রচেষ্টাই জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।




