দেশের পরিবেশ সুরক্ষায় বিশেষ পদক্ষেপ হিসেবে আগামী ছয় মাসের মধ্যে বিদ্যমান ‘মাদার ট্রি’ বা মাতৃবৃক্ষগুলো চিহ্নিত করে তা সংরক্ষণের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম পর্যালোচনার এক সভায় তিনি এই নির্দেশনা প্রদান করেন। প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব হাসান শিপলু এই সভার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানান।

বনের সবচেয়ে প্রাচীন, বিশাল এবং শক্তিশালী গাছগুলোকে ‘মাদার ট্রি’ বলা হয়। এই গাছগুলো মাটির নিচে মাইকোরিজাল নেটওয়ার্ক বা ছত্রাক জালিকার মাধ্যমে ছোট চারা ও পার্শ্ববর্তী গাছের সঙ্গে সংযুক্ত থাকে। এর মাধ্যমে তারা নতুন চারাগাছে পানি, কার্বন, নাইট্রোজেনসহ প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান পৌঁছে দেয়। এমনকি কোনো গাছ রোগাক্রান্ত হলে বা পোকার আক্রমণ হলে এই মাতৃবৃক্ষগুলো অন্য গাছগুলোকে সতর্ক সংকেত পাঠাতে সক্ষম।

সভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরকারি কর্মকর্তাদের তাদের নির্ধারিত দাপ্তরিক দায়িত্বের বাইরে গিয়ে দেশের জন্য আরও কিছু করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, দেশের জন্য কাজ করার সুযোগ সবার জীবনে আসে না, যারা বর্তমানে দায়িত্বশীল অবস্থানে আছেন তাদের উচিত কেবল ৯টা-৫টার অফিস করেই থেমে না থাকা। পরিবেশের বিপর্যয় ঘটলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে, তাই এখনই সক্রিয় হতে হবে।

রাজধানীর বায়ুদূষণের চরম পর্যায় নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। ঢাকা দীর্ঘকাল ধরে বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহরগুলোর তালিকায় প্রথম বা দ্বিতীয় স্থানে থাকার বিষয়টিকে তিনি দেশের জন্য লজ্জাজনক বলে অভিহিত করেন। এই পরিস্থিতি বদলে আনতে তিনি সংশ্লিষ্ট সকলকে নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্ব পালনের কথা বলেন।

প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের সংযোগ বৃদ্ধির লক্ষ্যে তিনি খোলামেলা জায়গার পরিমাণ বাড়ানোর কথা বলেন। পাশাপাশি স্কুল-কলেজের বাগান এবং ছাদবাগানে মানুষকে উৎসাহিত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়। এছাড়া পার্বত্য চট্টগ্রাম এলাকায় বনায়ন বাড়ানোর কার্যকর উপায় খোঁজার পাশাপাশি রোপিত চারার নিয়মিত পরিচর্যা ও বেঁচে থাকার হার পর্যবেক্ষণে নিজস্ব লোক নিয়োগের কথা বলা হয়।

সরকারের আগামী পাঁচ বছরের পরিকল্পনায় ২৫ কোটি গাছ লাগানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এই লক্ষ্য পূরণ হলে দেশের সাধারণ মানুষ এর সুফল পাবে। সভায় আরও সিদ্ধান্ত হয় যে, অন্যান্য মন্ত্রণালয় যদি তাদের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে কম গাছ লাগায়, তবে সেই ঘাটতি পূরণে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।

বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী সাইমুম পারভেজ এবং ভারপ্রাপ্ত সচিব ফাহমিদা খানমসহ মন্ত্রণালয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।