জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের নবীনবরণ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে সংগঠনটির দুই পক্ষের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনার জেরে শাখা ছাত্রদলের দুই যুগ্ম আহ্বায়ককে কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠিয়েছে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল। বৃহস্পতিবার সংগঠনটির সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছিরের নির্দেশনায় এই নোটিশ জারি করা হয়।

নোটিশপ্রাপ্ত দুই নেতা হলেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সুমন সরদার এবং মোস্তাফিজুর রহমান রুমি। তাঁদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের উপস্থিতিতে সংগঠনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে হাজির হয়ে লিখিত ব্যাখ্যা উপস্থাপন করতে হবে। কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের দায়িত্বশীল পদে থেকে সাংগঠনিক শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগের ভিত্তিতে কেন তাঁদের বিরুদ্ধে স্থায়ী সাংগঠনিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, সে বিষয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে হবে।

ঘটনার সূত্রপাত গত বুধবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে। বিশ্ববিদ্যালয়ের কাঁঠালতলা এলাকায় নবীনবরণ উপলক্ষে আয়োজিত কনসার্ট চলাকালীন সময়ে স্টেজে বসাকে কেন্দ্র করে সুমন সরদার ও মোস্তাফিজুর রহমান রুমির অনুসারীদের মধ্যে প্রথমে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। মুহূর্তের মধ্যে সেই বাকবিতণ্ডা ধাক্কাধাক্কি এবং সংঘর্ষে রূপ নেয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, উভয় পক্ষের অন্তত ৩০-৪০ জন কর্মী এই সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন।

এ ঘটনায় তিনজন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। তাঁরা হলেন গণিত বিভাগের ১৮তম ব্যাচের তানজিল আহমেদ মিথিল, রসায়ন বিভাগের ১২তম ব্যাচের রবিউল ইসলাম শাওন এবং ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের ১৬তম ব্যাচের মনিরুজ্জামান মনির। আহতদের দ্রুত ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, তিনজনের মধ্যে দুজনের মাথায় গুরুতর আঘাত লেগেছে। ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক কামাল হোসেন জানান, তিনজনই চিকিৎসার জন্য এসেছিলেন, তাঁদের মধ্যে দুজনের মাথায় আঘাত ছিল এবং একজনকে সার্জারি বিভাগে ভর্তি করা হয়েছে।

এই ঘটনা প্রসঙ্গে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মো. আজম খান বলেন, ‘এখন পর্যন্ত কেউ আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো অভিযোগ দাখিল করেনি। তবে কেউ যদি লিখিত অভিযোগ নিয়ে আসে, তাহলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।’ অন্যদিকে, শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সুমন সরদার দাবি করেন, ‘আমরা প্রোগ্রাম পরিচালনায় ব্যস্ত ছিলাম। হঠাৎ সিনিয়র-জুনিয়রদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি এবং হাতাহাতির ঘটনা ঘটে যায়।’ কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের কারণ দর্শানোর নোটিশ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এই বিষয়ে আমি এখনও কিছু জানি না।’

উল্লেখ্য, এর আগেও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে বেশ কয়েকবার সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সংগঠনটির দুই গ্রুপের মধ্যে নেতৃত্ব নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দ্বন্দ্ব চলে আসছে বলে জানা যায়। এবারের ঘটনায় কেন্দ্রীয় ছাত্রদল কঠোর অবস্থান নেওয়ায় দলটির অভ্যন্তরীণ সংকট আরও গভীর হতে পারে বলে পর্যবেক্ষকদের ধারণা।