তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগের সাবেক প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহ্‌মেদ পলক দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা একটি মামলায় সোমবার আদালতে হাজির হয়েছেন। ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ শাহজাহান কবিরের আদালতে হাজিরা দেওয়ার পর যখন তাঁকে পুনরায় কারাগারে পাঠানোর জন্য হাজতখানা থেকে বের করা হয়, তখন তিনি তাঁর দুই হাত প্রদর্শন করে অভিযোগ করেন যে, জং ধরা হ্যান্ডকাফের কারণে তাঁর হাত রক্তাক্ত হয়ে যাচ্ছে।

সেদিন দুদকের পক্ষ থেকে মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের কথা ছিল, যার জন্য তাঁকে কারাগার থেকে আদালতে আনা হয়। তবে দুদক নির্ধারিত সময়ে প্রতিবেদন জমা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় আদালত আগামী ২৩ নভেম্বর নতুন করে তারিখ ধার্য করেছেন। শুনানির পর পুলিশি প্রহরায় পলককে পুনরায় কারাগারে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। তাঁর আইনজীবী ফারজানা ইয়াসমিন রাখী এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

উল্লেখ্য যে, ২০২৪ সালের ১৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর জুনাইদ আহ্‌মেদ পলককে গ্রেপ্তার করা হয় এবং এরপর থেকেই তিনি আটক অবস্থায় রয়েছেন। পরবর্তীতে ২০২৪ সালের ১২ ডিসেম্বর দুদকের উপপরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান বাদী হয়ে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, পলক ব্যক্তিগত স্বার্থে এবং অবৈধ উপায়ে জ্ঞাত আয়ের উৎসের সাথে অসামঞ্জস্যপূর্ণ মোট ৮ কোটি ৭৩ লাখ ৪৭ হাজার টাকা মূল্যের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ অর্জন করেছেন। এছাড়া তাঁর নামে থাকা ২৫টি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ৩২ কোটি ৪ লাখ ৯৫ হাজার টাকা জমা এবং ২৯ কোটি ৮৪ লাখ ৭২ হাজার টাকার অস্বাভাবিক উত্তোলনের মাধ্যমে সন্দেহজনক লেনদেনের অভিযোগ আনা হয়েছে। দুদকের দাবি, ঘুষ ও দুর্নীতির মাধ্যমে তিনি মানিলন্ডারিং করেছেন এবং অবৈধভাবে অর্জিত সম্পদ আড়াল করার জন্য তা বিভিন্নভাবে রূপান্তর, স্থানান্তর ও হস্তান্তর করেছেন।