রাজধানীর ধোলাইখাল সংলগ্ন সাদেক হোসেন খোকা মাঠে আয়োজিত এক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, আওয়ামী ফ্যাসিবাদী শক্তিকে আর কোনোদিন বাংলাদেশের মাটিতে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালানোর সুযোগ দেওয়া হবে না। গত ১৭ বছরে যারা মানবতাবিরোধী অপরাধ, গণহত্যা এবং গুমের সাথে জড়িত, তাদের কঠোর শাস্তির কথা বলেন তিনি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উল্লেখ করেন, গণ-অভ্যুত্থানের পরবর্তী সময়ে দেশে স্বৈরাচারী ও ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার কোনো স্থান নেই। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে এই অপরাধীদের বিচার নিশ্চিত করা হবে এবং প্রয়োজনে ট্রাইব্যুনালের সংখ্যা আরও বৃদ্ধি করা হতে পারে। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনের সভাপতিত্বে এই সমাবেশটি অনুষ্ঠিত হয়।
শেখ হাসিনার ভারত অবস্থান এবং ডিসেম্বরে দেশে ফেরার গুঞ্জন প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, শেখ হাসিনা বর্তমানে মানবতাবিরোধী অপরাধে সাজাপ্রাপ্ত এবং ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত একজন আসামি। ভারত-বাংলাদেশ প্রত্যর্পণ চুক্তির আলোকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সরকার তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে ফেরত চেয়েছে। তিনি বলেন, সরকার চায় শেখ হাসিনা দেশে ফিরে বিচারের মুখোমুখি হোক। যেসব সাজাপ্রাপ্ত আসামি বর্তমানে বিদেশে অবস্থান করছেন, তাদের ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানান তিনি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে এবং আসামিরা চাইলে আপিলের সুযোগ পাবেন, তবে বিচার থেকে কারোর অব্যাহতি নেই।
রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তনের কথা বলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ দলের নেতা-কর্মীদের ব্যক্তিকেন্দ্রিক স্লোগান পরিহার করার আহ্বান জানান। তাঁর মতে, কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির নামে স্লোগান দেওয়া সঠিক রাজনৈতিক সংস্কৃতি নয়। এখন থেকে স্লোগান হতে হবে রাজনৈতিক, যা ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই এবং শহীদদের আত্মত্যাগকে সম্মান জানাবে।
গত সাত মাসের সরকারি সাফল্যের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার জনগণের ব্যাপক আকাঙ্ক্ষা নিয়ে গঠিত হয়েছে। একদিকে সরকার সাংবিধানিক সংস্কার, রাজনৈতিক শৃঙ্খলা এবং গণতন্ত্র সুসংহত করার কাজ করছে, অন্যদিকে একটি রাজনৈতিক গোষ্ঠী মাত্র সাত মাসের মাথায় সরকার পতনের এক দফা দাবি এবং লংমার্চের হুমকি দিচ্ছে। তিনি বিরোধীদের মনে করিয়ে দেন যে, সংবিধান সংশোধন কমিটিতে যুক্ত হওয়ার সুযোগ দেওয়া সত্ত্বেও তারা রাজপথে নেমেছেন, যা সাধারণ মানুষ বুঝতে পেরেছে। চার বছরের মাথায় আন্দোলনের যুক্তি থাকলেও সাত মাসের মাথায় এমন তৎপরতাকে তিনি ভিত্তিহীন বলে অভিহিত করেন।
জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে প্রশ্ন উঠলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তর্জাতিক বাজারের পরিস্থিতির কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, বিশ্ববাজারে এবং পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতে তেলের দাম অনেক বেড়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় প্রথম এক মাস দাম বাড়ানো হয়নি, তবে তেল পাচার রোধ এবং আন্তর্জাতিক বাজারের সাথে সামঞ্জস্য রাখতে সামান্য মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে। এই সাময়িক কষ্টের জন্য দুঃখ প্রকাশ করে তিনি আশ্বস্ত করেন যে, বিশ্ববাজারে দাম কমলেই বাংলাদেশেও তা কমিয়ে আনা হবে। সবশেষে, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে শক্তিশালী করতে এবং ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি।




