বর্তমান ফুটবল মৌসুমে বার্সেলোনা যেন এক অপ্রতিরোধ্য গোলমেশিনে পরিণত হয়েছে। কোচ হান্সি ফ্লিকের অধীনে দলটির আক্রমণভাগের বিধ্বংসী রূপ এখন পুরো ইউরোপের নজর কেড়েছে। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে মাত্র ১১টি ম্যাচে তারা প্রতিপক্ষের জালে মোট ৪৮ বার বল পাঠিয়েছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগের দলগুলোর মধ্যে গোল করার হিসেবে এখন বার্সেলোনার ধারেকাছেই কেউ নেই। দ্বিতীয় স্থানে থাকা বায়ার্ন মিউনিখ ১০ ম্যাচে ৩৬ গোল করলেও বার্সেলোনার চেয়ে ১২টি গোল পিছিয়ে রয়েছে। এছাড়া ১০ ম্যাচে ২৯ গোল করে যৌথভাবে তৃতীয় স্থানে রয়েছে ফ্রেইবুর্গ ও ব্রাইটন এবং ১১ ম্যাচে ২৮ গোল করে পঞ্চম স্থানে রয়েছে ম্যানচেস্টার সিটি। ম্যাচপ্রতি গড়ে ৪.৩৬টি গোল করছে ফ্লিকের শিষ্যরা।

লা লিগায় শুরু থেকেই চমক দেখিয়েছে বার্সেলোনা। প্রথম ৯টি ম্যাচে তারা শতভাগ জয়ের রেকর্ড ধরে রেখেছে এবং এই সময়ে প্রতিপক্ষের জালে ৩৯টি গোল করেছে, যেখানে লিগের দ্বিতীয় স্থানে থাকা দলের গোল সংখ্যা মাত্র ১৯টি। সম্প্রতি রিয়াল বেতিসের বিপক্ষে ৫-২ গোলের বড় জয় তাদের এই আধিপত্য আরও স্পষ্ট করে দিয়েছে। লক্ষণীয় বিষয় হলো, তাদের এই গোলবন্যার বৈচিত্র্য অত্যন্ত বেশি। লা লিগায় এখন পর্যন্ত ১১ জন আলাদা খেলোয়াড় গোল করেছেন, যা ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগের যেকোনো দলের তুলনায় সর্বোচ্চ। এর অর্থ হলো, বার্সেলোনাকে আটকাতে হলে শুধুমাত্র নির্দিষ্ট এক-দুজন তারকা খেলোয়াড়কে নিষ্ক্রিয় করে লাভ নেই, কারণ তারা আক্রমণভাগের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে গোল করার ক্ষমতা রাখে। বেতিসের বিপক্ষে রদ্রি এবং এরিক গার্সিয়াও গোল করেছেন, যা তাদের এই দলগত শক্তির প্রমাণ দেয়।

রেকর্ডের দিকে তাকালে দেখা যায়, ১১টি ম্যাচের মধ্যে ৬টিতেই অন্তত ৫টি করে গোল করেছে বার্সেলোনা। মৌসুমে সবচেয়ে কম গোল করেছে অ্যাথলেটিক বিলবাওয়ের বিরুদ্ধে, তবে সেখানেও তারা দুটি গোল আদায় করে নিয়েছে। ক্লাবের ইতিহাসে ২০১১-১২ মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে সর্বোচ্চ ১৯০টি গোল করার রেকর্ড রয়েছে, যেখানে লিওনেল মেসি একাই ৭৩টি গোল করেছিলেন। বর্তমান মৌসুমে ১১ ম্যাচে ৪৮ গোল করে সেই রেকর্ডের চার ভাগের এক ভাগ পথ ইতিমধ্যেই পাড়ি দিয়ে ফেলেছে দলটি। যদিও ইউরোপের বড় লিগগুলোর ইতিহাসে তুরিনোর (১৯৪৭-৪৮) ১২৫ গোলের রেকর্ড এখনও অটুট, তবে বর্তমান ফর্ম ধরে রাখলে বার্সেলোনা নতুন ইতিহাস গড়তে পারে।

কোচ হান্সি ফ্লিক এই সাফল্যের বিষয়ে বেশ সংযত। জয়ের উচ্ছ্বাস থাকলেও তিনি মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, তাদের মূল লক্ষ্য কেবল গোল করা নয়, বরং ট্রফি জয়। তাঁর মতে, ফুটবল খেলা হয় বড় শিরোপার জন্য। তবে সামনে আসছে কঠিন পরীক্ষা। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যেই বার্সেলোনার মুখোমুখি হবে গত দুইবারের চ্যাম্পিয়ন পিএসজি এবং এরপর ২৫ অক্টোবর ক্যাম্প ন্যুতে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে মৌসুমের প্রথম 'এল ক্লাসিকো' ম্যাচ খেলবে তারা। এই হাই-ভোল্টেজ ম্যাচগুলোই প্রমাণ করবে বার্সেলোনার এই গোলবন্যা ধরে রাখা সম্ভব কি না।