একসময়ের ফুটবল পরাশক্তি ইতালি বর্তমানে চরম সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। টানা তিনটি বিশ্বকাপে জায়গা করে নিতে ব্যর্থ হওয়া চারবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন দলটির ভাবমূর্তি এখন তলানিতে। এই কঠিন সময়ে ইতালির জাতীয় দলের দায়িত্ব আবারও গ্রহণ করেছেন রবের্তো মানচিনি। তবে তার এই প্রত্যাবর্তন সহজ নয়; তিন বছর আগে হঠাৎ দায়িত্ব ছেড়ে সৌদি আরবে পাড়ি জমানোর কারণে ইতালির ফুটবল প্রেমীদের মাঝে তিনি এখনও অপ্রিয়। অনেক সমর্থক মনে করেন, অর্থের লোভে মানচিনি নিজ দেশের সাথে প্রতারণা করেছেন। এই বাস্তবতাকে অকপটে স্বীকার করে মানচিনি জানিয়েছেন, সমর্থকদের হতাশ হওয়ার পূর্ণ অধিকার রয়েছে এবং মাঠের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের মাধ্যমেই তিনি তাদের বিশ্বাস পুনরায় জয় করতে চান।

মানচিনির কোচিংয়েই ইতালি ২০২১ সালে ইউরো জয় করেছিল, যদিও পরবর্তীতে ২০২২ বিশ্বকাপে তারা অংশ নিতে পারেনি। ২০২৩ সালে আচমকা সৌদি আরবের প্রধান কোচের দায়িত্ব নিয়েছিলেন তিনি, কিন্তু চার বছরের চুক্তির মাত্র ১৪ মাসেই সেখান থেকে বিদায় নিতে হয়। এরপর কাতারের ক্লাব আল-সাদ হয়ে সম্প্রতি তিনি পুনরায় ইতালির কোচ হিসেবে নিযুক্ত হন। মাস দুয়েক আগে এই ঘোষণা দেওয়া হলেও, আসন্ন নেশন্স লিগের ম্যাচগুলোর মাধ্যমেই আনুষ্ঠানিকভাবে তার নতুন কার্যকাল শুরু হতে যাচ্ছে।

মানচিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, ২০২১ সালের ইউরো জয়ের পুরনো কৃতিত্ব দিয়ে বর্তমান পরিস্থিতি বদলানো সম্ভব নয়। তার লক্ষ্য এখন জাতীয় দলকে তার যোগ্য উচ্চতায় ফিরিয়ে আনা। আগামী শুক্রবার ঘরের মাঠে বেলজিয়ামের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে তিনি তার নতুন যাত্রা শুরু করবেন। এরপর তুরস্ক ও ফ্রান্সের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলো রয়েছে তার সামনে। এই সিরিজের জন্য তিনি ৩৪ সদস্যের একটি দল ঘোষণা করেছেন, যেখানে ২০২১ সালের চ্যাম্পিয়ন দলের অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের পাশাপাশি আটজন নতুন মুখকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে তরুণ খেলোয়াড়দের সুযোগ দেওয়াকে অত্যন্ত জরুরি মনে করছেন তিনি, যাতে আগামী চার বছরের জন্য একটি শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি করা যায়।

নতুন মেয়াদে বড় কোনো শিরোপা জয়ের ব্যাপারে যথেষ্ট আশাবাদী মানচিনি। তিনি এমন একটি দল গড়তে চান যারা মাঠে আধিপত্য বিস্তার করবে এবং প্রতি ম্যাচে নিজেদের সেরাটা দিয়ে খেলবে। তার বিশ্বাস, ইতালীয় ফুটবলারদের মধ্যে যথেষ্ট প্রতিভা রয়েছে, শুধু তাদের সঠিক সুযোগ দিয়ে সামনে নিয়ে আসার প্রয়োজন। সামনে ২০২৮ সালের ইউরো কাপ, যার ফাইনাল লন্ডনের ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে—যেখানে ইতালি ২০২১ সালে শিরোপা জিতেছিল। সেই গৌরবময় স্মৃতিকে সামনে রেখেই নতুন লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামছেন মানচিনি।