ইসরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্কের টানাপোড়েনের মুখে অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমে অবস্থিত ব্রিটিশ কনস্যুলেট থেকে অধিকাংশ কূটনীতিক সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসরায়েল। ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিডিয়ন সার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক বার্তায় জানান, ২০ জন কূটনীতিক এবং কনসাল জেনারেল দেশ ছাড়বেন। তবে দুই দেশের মধ্যকার আলোচনার ফলে একটি সমঝোতা হয়েছে, যার অধীনে মাত্র সাত সদস্যের একটি টাস্কফোর্স অত্যন্ত সীমিত পরিসরে ওই ভবনে কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারবেন। গিডিয়ন সার উল্লেখ করেন, এই পরিস্থিতি এ পর্যায়ে গড়াতে তারা চাননি, তবে গত ৮ সেপ্টেম্বর যুক্তরাজ্য কর্তৃক আরোপ করা নিষেধাজ্ঞার পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড এই বিষয়টিকে সাময়িক বলে অভিহিত করেছেন। তিনি জানান, নিরাপত্তার খাতিরে কিছু কর্মীকে সাময়িকভাবে সরিয়ে নেওয়া হলেও কনস্যুলেটটি পুরোপুরি বন্ধ করা হবে না। বরং এটি 'যুক্তরাজ্যের মিশন' হিসেবেই গণ্য হবে এবং ফিলিস্তিনি জনগণের সঙ্গে তাদের কাজ অব্যাহত থাকবে। উল্লেখ্য, ১৮৩৮ সালে প্রতিষ্ঠিত এই কনস্যুলেটটি তেল আবিবে অবস্থিত প্রধান ব্রিটিশ দূতাবাসের চেয়ে আলাদা এবং এর মাধ্যমে মূলত পশ্চিম তীর ও গাজায় ফিলিস্তিনিদের সাথে সম্পর্ক বজায় রাখা হতো।

ঘটনার সূত্রপাত হয় গত মাসে, যখন আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনের কারণে যুক্তরাজ্য দেশটির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে। এর প্রতিক্রিয়ায় ইসরায়েল সরকার ঘোষণা করেছিল যে, নিষেধাজ্ঞার ৩০ দিনের সময়সীমা শেষ হলে তারা ব্রিটিশ কনস্যুলেটটি বন্ধ করে দেবে। আজ বৃহস্পতিবার সেই সময়সীমা শেষ হওয়ার আগে যুক্তরাজ্য সরকার ইসরায়েলকে কনস্যুলেটটি চালু রাখার জন্য শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অনুরোধ জানায়।

ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের দাবি অনুযায়ী, কনস্যুলেটের সাইনবোর্ড সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং কার্যক্রম বন্ধের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। যদিও বৃহস্পতিবার সকালেও ভবনের সামনে ব্রিটিশ পতাকা উড়তে দেখা গেছে এবং কিছু কর্মীকে ভেতরে প্রবেশ করতে দেখা গেছে। ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্বীকার করেছেন যে, ভবনটি ব্রিটিশ সরকারের সম্পত্তি, তবে সেখানে এখন থেকে অত্যন্ত সীমিত কার্যক্রমের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। মূলত ইসরায়েলি পণ্য বর্জন এবং বসতি স্থাপনের বিরুদ্ধে যুক্তরাজ্যের কঠোর অবস্থানের কারণেই এই কূটনৈতিক সংঘাত চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে।