ভারতের সাম্প্রতিক শিক্ষার্থী ও তরুণ প্রজন্মের আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দুতে এখন ২৯ বছর বয়সী নেহা বোরা। জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের (জেএনইউ) স্কুল অব আর্টস অ্যান্ড অ্যাস্থেটিকসে থিয়েটার ও পারফরম্যান্স বিষয়ে পিএইচডি করা এই তরুণী বর্তমানে অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (এআইএসএ) সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর জ্বালাময়ী বক্তৃতা, সাহসী স্লোগান এবং পুলিশের ব্যারিকেড ডিঙিয়ে প্রতিবাদের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে, যার ফলে তিনি আন্দোলনের এক পরিচিত প্রতীকে বা 'পোস্টার গার্ল'-এ পরিণত হয়েছেন।
নেহা বোরার রাজনৈতিক সক্রিয়তা শুরু হয়েছিল দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক পড়ার সময় থেকেই। তিনি সামাজিক বিভিন্ন ইস্যুতে নির্মিত নাটকে অংশ নিতেন, যা তাঁর রাজনৈতিক সচেতনতাকে আরও সমৃদ্ধ করেছে। ২০১৯ সালে নাগরিকত্ব (সংশোধন) আইনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভেও তিনি অংশ নিয়েছিলেন। তাঁর মতে, থিয়েটার এবং রাজনৈতিক সক্রিয়তা তাঁর জীবনে একে অপরের পরিপূরক হিসেবে বিকশিত হয়েছে। উত্তরাখণ্ডের খাটিমার বাসিন্দা নেহার পরিবার ঐতিহাসিকভাবে হিন্দুত্ববাদী এবং ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) সমর্থক। তাঁর বাবা একজন সেনা কর্মকর্তা এবং মা গৃহিণী। বামপন্থী রাজনীতিতে তাঁর সম্পৃক্ততাকে পরিবার খুব একটা সহজভাবে গ্রহণ করেনি, তবে মতাদর্শগত পার্থক্য থাকা সত্ত্বেও তাঁর অনশনের খবর শুনে মা তাঁর পাশে দাঁড়াতে দিল্লি ছুটে এসেছিলেন এবং শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের পর তাঁকে অভিনন্দন জানান।
২০২৬ সালের জুন ও জুলাই মাসে প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদ এবং তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে নেহা টানা ২৩ দিন অনশন করেন। এই দীর্ঘ অনশনে তাঁর শরীরের ওজন সাড়ে সাত কেজি কমে যায় এবং রক্তে শর্করার মাত্রা বিপজ্জনক পর্যায়ে নেমে গিয়েছিল। তবে এই কঠিন সময়েও তিনি ইনস্টাগ্রামে ব্যঙ্গাত্মক পোস্টের মাধ্যমে সরকারের সমালোচনা করে আলোচনায় থাকেন। তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সরকারের 'ক্ষমতার ক্ষুধা'র সাথে নিজের ক্ষুধার তুলনা করেন। পরবর্তীতে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ ঘটলেও নেহা একে চূড়ান্ত বিজয় হিসেবে দেখেননি। তাঁর মতে, এটি কোনো ব্যক্তির পদত্যাগের চেয়ে সরকারের ঔদ্ধত্যের বিরুদ্ধে লড়াই।
নেহার রাজনৈতিক পথচলা কেবল দিল্লিতেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। আগস্ট মাসে ঝাড়খণ্ডের রাঁচিতে সরকারি নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের প্রতিবাদে মিছিলে অংশ নিতে গিয়ে তিনি এক অপ্রীতিকর ঘটনার সম্মুখীন হন। সেখানে এক ব্যক্তি তাঁর মুখে কালি ছুড়ে মারেন, যার কারণ হিসেবে ওই ব্যক্তি নেহার উমর খালিদ সমর্থক হওয়ার কথা উল্লেখ করেন। তবে এই ঘটনা নেহাকে দমাতে পারেনি; বরং কালিমাখা ছবি পোস্ট করে তিনি দৃঢ়তার সাথে জানান যে তিনি এই কালি গর্বের সাথে মেখে রাখবেন এবং প্রতিবাদ চালিয়ে যাবেন।
সম্প্রতি ২৫ সেপ্টেম্বর ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধনের বিরুদ্ধে এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আয়োজিত বিক্ষোভে অংশ নিয়ে তিনি পুনরায় পুলিশের হাতে আটক হন। দিল্লি পুলিশের দাবি অনুযায়ী, ওই সমাবেশের কোনো পূর্ব অনুমতি ছিল না। যদিও পরে তাঁকে মুক্তি দেওয়া হয়। এআইএসএ-র পক্ষ থেকে দেশজুড়ে শুরু করা 'জেন-জি রাইজিং' প্রচারণায় নেহা বিভিন্ন রাজ্যে গিয়ে তরুণদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন, যাকে অনেকে বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নতুন কৌশলের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখছেন।




