ইসরায়েলের রাজনীতিতে এক বড় পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। দীর্ঘদিনের প্রধানমন্ত্রী বেনজামিন নেতানিয়াহুর শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে এবং পরবর্তী সরকার প্রধানের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে সামনে এসেছেন সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকট। বিশ্ববাসীর মনে এখন প্রশ্ন, নেতানিয়াহুর তুলনায় আইজেনকটের নেতৃত্ব পৃথিবীর জন্য কতটা ইতিবাচক বা ক্ষতিকর হবে।
১৯৬০ সালের ১৯ মে ইসরায়েলের তিবেরিয়াস শহরে গাদি আইজেনকটের জন্ম। তাঁর বাবা-মা, মেইর ও এস্থার, মরক্কো থেকে অভিবাসিত হয়ে ইসরায়েলে এসেছিলেন। তিনি মিজরাহি ইহুদি পরিবারের সন্তান, যাদের প্রতিনিধিত্ব একসময় ইসরায়েলের সামরিক ও রাজনৈতিক উচ্চপদে খুব সীমিত ছিল। শৈশব থেকেই তিনি লোহিত সাগরের তীরের বন্দরনগরী আইলাতে বেড়ে ওঠেন। তাঁর বাবা সেখানে তিমনা উপত্যকার একটি তামার খনিতে কর্মরত ছিলেন এবং মা ছিলেন একজন গৃহিণী।
শিক্ষাজীবনে আইজেনকটের ঝোঁক ছিল কারিগরি ও নৌবিদ্যার দিকে। আইলাতের গোল্ডওয়াটার হাইস্কুলে পড়াশোনার পাশাপাশি তিনি উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। তেল আবিব বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইতিহাসে স্নাতক এবং হাইফা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের আর্মি ওয়ার কলেজ থেকে কৌশলগত বিষয়ে বিশেষ পড়াশোনা করেছেন তিনি।
ব্যক্তিগত জীবনে আইজেনকট যথেষ্ট ঘরোয়া মানুষ। ১৯৮২ সালের লেবানন যুদ্ধের সময় হানার সঙ্গে তাঁর পুনরায় দেখা হয় এবং তাঁদের পারস্পরিক প্রতিশ্রুতির পর ১৯৮৪ সালে তাঁরা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। তাঁদের পাঁচ সন্তান (দুই ছেলে ও তিন মেয়ে) রয়েছে এবং বর্তমানে তিনি স্ত্রী ও পরিবারের সাথে হার্জলিয়ায় বসবাস করেন। তবে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের পর গাজা যুদ্ধের ভয়াবহতা তাঁর পরিবারকেও স্পর্শ করেছে। গত বছরের ডিসেম্বরে তাঁর ২৫ বছর বয়সী ছোট ছেলে গাল আইজেনকট এবং পরবর্তীতে আরও দুই ভাতিজা যুদ্ধে প্রাণ হারান।
নেতানিয়াহুর পরিশীলিত ও অভিজাত ভাবমূর্তির বিপরীতে আইজেনকটের ব্যক্তিত্ব বেশ সাধারণ। তিনি দামি স্যুটের চেয়ে কালো টি-শার্ট এবং জিন্স পরতে বেশি পছন্দ করেন। মজার ব্যাপার হলো, তাঁর পরিবারের আদি পদবি ছিল 'আজেনকট'। তবে মরক্কো থেকে আসার পর সরকারি নথিবদ্ধকরণ প্রক্রিয়ায় এক কর্মচারীর ভুলের কারণে তা পরিবর্তিত হয়ে 'আইজেনকট' হয়ে যায়, যা পরবর্তীতে স্থায়ী পদবিতে পরিণত হয়।
সামরিক ক্যারিয়ারে আইজেনকটের উত্থান ছিল ঐতিহাসিক। ২০১৫ সালে তিনি ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) প্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং ২০১৯ সাল পর্যন্ত এই পদে আসীন ছিলেন। মিজরাহি ইহুদি জনগোষ্ঠীর প্রথম ব্যক্তি হিসেবে সেনাপ্রধানের দায়িত্ব পাওয়া তাঁর জন্য ছিল এক মাইলফলক। সামরিক জীবন থেকে অবসর নেওয়ার পর তিনি রাজনীতির আঙিনায় প্রবেশ করেন। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে তিনি 'ইয়াশার' নামে একটি রাজনৈতিক দল গঠন করেন, যার হিব্রু অর্থ হলো সত্যনিষ্ঠ, সৎ বা সোজাসাপটা। নেতানিয়াহুর বিরোধী শিবিরে তাঁর এই দ্রুত উত্থান বর্তমানে ইসরায়েলি রাজনীতির অন্যতম প্রধান আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।




