ইয়েমেনের রাজধানী সানা থেকে পূর্ব দিকে অবস্থিত আল-শারিয়া শহরে সৌদি আরবের চালানো বিমান হামলায় নারী ও শিশুসহ অন্তত ২৫ জন নিহত হয়েছেন। হুথি আন্দোলনের সাথে সম্পৃক্ত সংবাদমাধ্যমগুলো এই হতাহতের খবর নিশ্চিত করেছে। হুথি পরিচালিত টেলিভিশন চ্যানেল আল মসিরাহ-তে সম্প্রচারিত লাইভ ফুটেজে দেখা গেছে, ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধারকারীরা বেশ কিছু মরদেহ বের করে আনছেন, যার মধ্যে ছোট শিশুদের দেহও ছিল। এছাড়া অনেক আহত ব্যক্তিকে স্ট্রেচারে করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার দৃশ্যও দেখানো হয়েছে। হুথি নিয়ন্ত্রণাধীন সাবা নিউজ এজেন্সি স্পষ্টভাবে এই হামলার জন্য সৌদি আরবকে দায়ী করেছে। তবে ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে সমর্থন দেওয়া সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে কোনো মন্তব্য করা হয়নি।
দশক খানেক ধরে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট ইয়েমেনের স্বীকৃত সরকারের পক্ষে হুথিদের সাথে যুদ্ধে লিপ্ত। কয়েক বছর ধরে এই যুদ্ধ স্থবির থাকলেও ইরান যুদ্ধের প্রভাবে সংঘাত আবারও নতুন করে শুরু হয়েছে। হুথিদের নিয়ন্ত্রিত সানা বিমানবন্দরে ইরানের কোনো পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সৌদি আরবের হামলার পর থেকে দীর্ঘদিনের যুদ্ধবিরতি ভেঙে যায়। এর পাল্টা প্রতিক্রিয়া হিসেবে তেহরান সমর্থিত হুথিরা সৌদি আরবের আবহা বিমানবন্দর লক্ষ্য করে হামলা চালায়। শুধু তাই নয়, হরমুজ প্রণালীর বিকল্প হিসেবে লোহিত সাগরে ব্যবহৃত সৌদি তেলবাহী জাহাজেও তারা আক্রমণ শুরু করে। এর ফলে সৌদি সমর্থিত সরকার এবং হুথিদের মধ্যে পুনরায় বড় ধরনের লড়াই শুরু হয়েছে।
সাম্প্রতিক সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা তাইজ প্রদেশের একটি বাজারে গত শুক্রবার চালানো হামলায় ৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে। এই ঘটনার জন্য হুথিরা সৌদীদের দায়ী করলেও সরকারি বাহিনী দাবি করেছে, হুথিরাই ওই স্থানে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, সংঘাত পুনরায় শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত ১,৬০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন এবং ৩ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। সৌদি আরব নিয়মিতভাবে হুথিদের ঘাঁটিতে বোমা হামলা চালাচ্ছে, আর হুথিরা সৌদি আরবের বিমানবন্দর ও তেল খনিসহ বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ছে।
আল-শারিয়া শহরে হামলার কয়েক ঘণ্টা আগে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট দাবি করেছিল যে, তারা রিয়াদের দিকে ধাবিত একটি ক্ষেপণাস্ত্র মাঝপথে প্রতিহত করেছে। এই ধারাবাহিক হামলার প্রেক্ষিতে হুথি নেতা মাহদি আল-মাশাত কঠোর প্রতিশোধ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। এই উত্তেজনার মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন কূটনৈতিক পোস্টে কর্মী বিন্যাস পরিবর্তন করছে মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট। অন্যদিকে, ইয়েমেন সেনাবাহিনীর দেওয়া তথ্যমতে, সোমবার সরকারি নিয়ন্ত্রণে থাকা শাবওয়া প্রদেশের একটি প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে তিনটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। এছাড়া ইয়েমেনের তথ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, আল-মাশিক প্রাসাদে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানলেও প্রধানমন্ত্রী ও অন্যান্য মন্ত্রীরা অক্ষত রয়েছেন। পাশাপাশি, রেকর্ডিং ডিভাইস বসানোর অভিযোগে অভিযুক্ত আব্দুররহমান আলফোজানকে জামিন দেওয়া হয়নি এবং গত সপ্তাহে মসজিদে 'অশালীন কাজ' করার দায়ে দুই বাংলাদেশিকে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে সৌদি আরব।




