যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফলে বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়ে হোয়াইট হাউসে গুরুত্বপূর্ণ রদবদল করলেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারানোর পর তিনি কট্টরপন্থী এবং তাঁর অত্যন্ত বিশ্বস্ত সহযোগী স্টিফেন মিলারকে হোয়াইট হাউসের চিফ অব স্টাফ হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন। সুসি ওয়াইলসের স্থলাভিষিক্ত হয়ে আগামী সোমবার থেকে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন ৪১ বছর বয়সী মিলার। অভিবাসন বিরোধী কঠোর নীতির অন্যতম রূপকার হিসেবে পরিচিত মিলারের এই নিয়োগের মাধ্যমে ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, ডেমোক্র্যাটদের মোকাবিলায় তিনি এখন আরও আক্রমণাত্মক অবস্থান নেবেন।
নির্বাচনের সর্বশেষ তথ্যানুসারে, নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদের ৪৩৫ আসনের মধ্যে ডেমোক্রেটিক পার্টি ২৫৪টি আসনে জয়ী হয়েছে, যেখানে রিপাবলিকান পার্টি পেয়েছে ১৬২টি আসন (১৯টি আসনের ফল বাকি)। অন্যদিকে, ১০০ আসনের উচ্চকক্ষ সিনেটে ডেমোক্র্যাটদের দখলে ৫৪টি এবং রিপাবলিকানদের ৪৪টি আসন রয়েছে (২টি আসনের ফল বাকি)। নিম্নকক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য ২১৮টি আসন প্রয়োজন ছিল, যা রিপাবলিকানরা অর্জন করতে ব্যর্থ হয়েছেন।
সিবিএস নিউজের ‘সিক্সটি মিনিটস’ অনুষ্ঠানে মন্ত্রিসভায় পরিবর্তনের আভাস দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এই নিয়োগ ঘোষণা করেন ট্রাম্প। সাংবাদিকদের তিনি জানান, তিনি প্রশাসনে একটি পরিবর্তন আনতে চেয়েছিলেন এবং মিলার তাঁর শুরু থেকেই অত্যন্ত বিশ্বস্ত ও লড়াকু একজন সহযোগী। তবে নির্বাচনের পর ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে সমঝোতার যে কথা ট্রাম্প বলেছিলেন, আপসহীন মিলারের নিয়োগের পর সেই সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, ট্রাম্প তাঁর নীতি পরিবর্তনের পরিবর্তে সবচেয়ে অনুগতদের পুরস্কৃত করছেন এবং তিনি পথ বদলাচ্ছেন না।
স্টিফেন মিলার এর আগে ডেপুটি চিফ অব স্টাফ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। প্রতিদিন তিন হাজার অভিবাসীকে গ্রেপ্তারের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণসহ ট্রাম্পের ব্যাপক বিতাড়ন কর্মসূচিতে তাঁর প্রধান ভূমিকা ছিল। এই কঠোর নীতির ফলে অনেক দীর্ঘকাল ধরে বসবাসকারী অভিবাসীও গ্রেপ্তার হয়েছেন, যা জনসমর্থন পায়নি। রয়টার্স-ইপসোস জরিপ অনুযায়ী, ৫৪ শতাংশ মানুষ এই অভিযানের বিরোধিতা করেছেন।
মিলারকে নিয়োগের তীব্র সমালোচনা করেছেন ডেমোক্র্যাট নেতারা। সিনেটের নেতা চাক শুমার একে 'ভয়াবহ সিদ্ধান্ত' বলে অভিহিত করেছেন এবং প্রতিনিধি পরিষদের নেতা হাকিম জেফ্রিস মিলারকে 'বিপজ্জনক বিদেশিবিদ্বেষী ও বেপরোয়া চরমপন্থী' হিসেবে বর্ণনা করেছেন। এমনকি রিপাবলিকান শিবিরের ইন্ডিয়ানার কংগ্রেস সদস্য মার্লিন স্টুটজম্যানও এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন। তবে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথসহ ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠরা এই নিয়োগে উচ্ছ্বসিত।
বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, হোয়াইট হাউসের চিফ অব স্টাফ অত্যন্ত প্রভাবশালী পদ; তিনি নির্ধারণ করেন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে কারা দেখা করবেন এবং হোয়াইট হাউসের অগ্রাধিকার কী হবে। কংগ্রেসের সাথে দর-কষাকষিতেও তাঁর ভূমিকা মুখ্য। যেহেতু ট্রাম্প এখন কংগ্রেসের সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়েছেন, তাই নিজের কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে তাঁকে নির্বাহী ক্ষমতার ওপর আরও বেশি নির্ভর করতে হবে, যার প্রবল সমর্থক স্টিফেন মিলার।
অন্যদিকে, বিদায়ী চিফ অব স্টাফ সুসি ওয়াইলস এখন ট্রাম্পের রাজনৈতিক কার্যক্রমে যুক্ত হবেন। তিনি প্রথম নারী চিফ অব স্টাফ হিসেবে কর্মীদের শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য প্রশংসিত হয়েছিলেন। ট্রাম্প সিবিএস-কে ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, মন্ত্রিসভার সদস্যরা ভালো কাজ করলেও তিনি আরও কিছু রদবদল করতে পারেন, যদিও নির্দিষ্ট করে কারো নাম বলেননি। তবে ইরান যুদ্ধ নিয়ে সমালোচিত হয়েও প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের পদ আপাতত নিরাপদ বলে মনে করা হচ্ছে।




