জর্ডানে মার্কিন মধ্যস্থতায় সিরিয়া ও ইসরায়েলের কর্মকর্তাদের মধ্যে সাম্প্রতিক আলোচনার খবর প্রকাশ পেয়েছে। সিরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদ আল-শিবানি গত সপ্তাহে ইসরায়েলি হামলার পর উত্তেজনা কমাতে একটি উচ্চপর্যায়ের ইসরায়েলি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সানা জানায়, রবিবারের এই বৈঠকে ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা চুক্তির জন্য আলোচনা পুনরায় শুরু করার দিকে মনোযোগ দেওয়া হয়েছিল।

এই আলোচনার পটভূমি তৈরি হয়েছিল ইদলিব প্রদেশের আবু দহুর বিমানঘাঁটিতে ইসরায়েলি হামলার পর। ইসরায়েল জানিয়েছিল, তুরস্কের উপস্থিতি ঠেকাতে এই হামলা চালানো হয়েছিল, কারণ তুরস্ক ১৪ বছরের গৃহযুদ্ধের পর সিরিয়ার নতুন সরকারের সেনাবাহিনী পুনর্গঠনের প্রচেষ্টাকে সমর্থন জানাচ্ছিল। বৈঠকে সিরিয়ার কর্মকর্তারা যেকোনো দেশের সঙ্গে মিত্রতা গড়ার ও নিজস্ব সেনাবাহিনী গড়ে তোলার অধিকার জোরালোভাবে তুলে ধরেন। এছাড়া ২০২৪ সালের ডিসেম্বর থেকে ইসরায়েলি বাহিনী দখল করে রাখা দক্ষিণ সিরিয়ার বাফার অঞ্চল থেকে প্রত্যাহার এবং ১৯৬৭ সালের মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের সময় দখল করা গোলান উচ্চভূমি সিরিয়ার ভূখণ্ড হিসেবে স্বীকৃতির দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন তারা। ইসরায়েলি পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি সেনাবাহিনী ঘোষণা করেছে, তারা হামাসের বিশেষ বাহিনীর সঙ্গে যুক্ত একজন যোদ্ধাকে নিশানা করে হত্যা করেছে। এটি গত সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে মার্কিন মধ্যস্থতাকারী জ্যারেড কুশনারের বৈঠকের পর থেকে ঘোষিত লক্ষ্যভিত্তিক হামলার ধারাবাহিকতার অংশ। ইসরায়েল দাবি করে, তারা ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলায় অংশগ্রহণকারী যোদ্ধাদেরই নিশানা করে। কুশনারের বৈঠকের পর থেকে সাত দিনের মধ্যে ছয় দিনই এমন হামলার খবর প্রকাশ পেয়েছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত অক্টোবর থেকে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির পর থেকে কমপক্ষে ১,২৮৮ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যদিও এই পরিসংখ্যান আন্তর্জাতিক মহলে সাধারণত নির্ভরযোগ্য হিসেবে গণ্য হয়।

সোমবার প্রত্যাশিত নতুন মার্কিন নিষেধাজ্ঞার ঘোষণার আগে ইরানের মুদ্রা রেকর্ড সর্বনিম্ন স্তরে নেমে এসেছে। তেহরানের শীর্ষ নিরাপত্তা সংস্থার নতুন প্রধান রবিবার হুঁশিয়ারি দেন, ওয়াশিংটনের নিষেধাজ্ঞাকে সমর্থন করা যেকোনো দেশের উদ্যোগকে ইরান 'যুদ্ধের পদক্ষেপ' হিসেবে দেখবে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, পরিস্থিতির উত্তেজনা অনিবার্যভাবে পরিণাম বয়ে আনবে এবং তেহরানের হাত বাঁধা নেই। এই সম্প্রসারিত নিষেধাজ্ঞা কয়েক সপ্তাহের অচলাবস্থার পর আসছে।

যুক্তরাষ্ট্র এখনো হরমুজ প্রণালীতে ইরানের নিয়ন্ত্রণ ভাঙতে পারেনি, যেখানে যুদ্ধ শুরুর আগে প্রায় ছয় মাস ধরে বিশ্বের বাণিজ্যিক তেলের এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হতো। প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়ার জন্য ইরানের দাবির মধ্যে রয়েছে মার্কিন নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার, অঞ্চল থেকে মার্কিন বাহিনীর প্রত্যাহার এবং যুদ্ধে হওয়া ক্ষতির ক্ষতিপূরণ। ওমানের সঙ্গে পৃথক আলোচনায় ইরান জলপথ যৌথভাবে পরিচালনার বিষয়েও কথা বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন চুক্তি হোক বা না হোক।

দশকের পর দশক ধরে নিষেধাজ্ঞা সহ্য করলেও ইরানের অর্থনীতি নতুন বাণিজ্যিক অংশীদার খুঁজে বের করা ও দেশীয় শিল্প গড়ে তোলার মাধ্যমে মানিয়ে নিয়েছে। ঐতিহাসিকভাবে এসব নিষেধাজ্ঞা ইরানে মৌলিক পণ্যের দাম বাড়িয়েছে, তবুও দেশের অর্থনৈতিক ব্যবস্থা ধীরে ধীরে অভিযোজিত হয়েছে।

পশ্চিম তীরের কুসরা গ্রামে বসবাসরত ফিলিস্তিনি-আমেরিকান গৃহকর্তা লুই রিদি জানিয়েছেন, ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের দ্বারা তার বাড়ি ঘিরে রাখার পর থেকে তিনি অবাধে চলাফেরা করতে পারছেন না। ওহাইও থেকে এক সপ্তাহ আগে তিনি আত্মীয়দের সঙ্গে বাড়ি রক্ষায় যোগ দেন। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে এলাকাটিকে বন্ধ অঞ্চল ঘোষণা করে। রিদি জানান, বসতি স্থাপনকারীরা সপ্তাহজুড়ে তার বাড়ির উপরের পাহাড়ে ফিরে আসে। দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে ঘরটি ঘিরে রাখার পর থেকে ইসরায়েলি সেনারা বাসিন্দাদের চলে যেতে উৎসাহিত করলেও পুলিশ কোনো গ্রেপ্তারের ঘোষণা দেয়নি।

এই ঘেরাও ও ইসরায়েলের প্রতিক্রিয়াকে ইসরায়েলি মানবাধিকার গোষ্ঠী ও বিদেশি কর্মকর্তারা তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের ইসরায়েল দূত মাইক হাকাবি এই সহিংসতাকে সন্ত্রাসবাদ বলে অভিহিত করেন। ফিলিস্তিনিরা প্রায় ৩০ লাখ ফিলিস্তিনি ও ৫ লাখ ৬০ হাজার ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীর বাসস্থান পশ্চিম তীরকে ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রের হৃদয় হিসেবে বিবেচনা করেন এবং সেখানে ইসরায়েলের বিস্তারকে নিন্দা জানান। এ বছর ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের দ্বারা ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে সহিংসতার ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।