দীর্ঘ ৪৭ বছর পর সিরিয়াকে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের পৃষ্ঠপোষকদের তালিকা থেকে বাদ দিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। দেশটিতে বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিতে পুনরায় অন্তর্ভুক্তির পথে 'শেষ প্রধান বাধা' হিসেবে যা বিবেচিত হচ্ছিল, সেটি অপসারণ করল এই পদক্ষেপ। সিরিয়ার সরকার আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড থেকে নিজেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন রাখতে যে ইতিবাচক ভূমিকা নিয়েছে, তার স্বীকৃতি হিসেবেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও।
বর্তমান মার্কিন প্রশাসন সিরিয়ার নতুন প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারার সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলছে। এক সময় আল-কায়েদার একটি শাখার নেতা হিসেবে তার মাথার দাম ঘোষণা করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। তার ইসলামপন্থী গোষ্ঠী হায়াত তাহরির আল-শাম (এইচটিএস)ও মার্কিন বৈশ্বিক সন্ত্রাসী সংগঠনের তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। এই গোষ্ঠীটি পূর্বে আল-নুসরা ফ্রন্ট নামে পরিচিত ছিল এবং ২০১৬ সালে শারা জিহাদি নেটওয়ার্কের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার আগ পর্যন্ত সিরিয়ায় আল-কায়েদার সহযোগী হিসেবে কাজ করত। ২০২৪ সালের শেষ দিকে এইচটিএস-এর নেতৃত্বে বিদ্রোহী অভিযান প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের পতন ঘটায় এবং বর্তমানে শারার অন্তর্বর্তী সরকারে এই গোষ্ঠীর আধিপত্য রয়েছে।
সিরিয়াকে নিজেদের প্রভাব বলয়ে আনার চেষ্টা করছে ওয়াশিংটন, যাতে দেশটি রাশিয়া বা চীনের প্রভাবের বদলে যুক্তরাষ্ট্রের কাছাকাছি থাকে। তবে ঝুঁকিও অনেক। সিরিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতি এখনও নাজুক এবং সেখানে প্রতিনিধিত্বমূলক সরকার গঠিত হয়নি। এছাড়া দেশটি তার প্রতিবেশী ইসরায়েল ও তুরস্কের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দুতে অবস্থান করছে।
রুবিও জানিয়েছেন, সোমবারের এই সিদ্ধান্ত — যা জুলাই মাসে প্রথম ঘোষণা করা হয়েছিল — সিরিয়ার জন্য 'সমৃদ্ধির পথ' উন্মুক্ত করবে। মার্কিন ট্রেজারি সচিব স্কট বেসেন্ট বলেছেন, 'আজকের পদক্ষেপ সিরিয়ায় অতিরিক্ত বিনিয়োগকে উৎসাহিত করবে এবং রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা আনতে সহায়তা করবে।' রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সানার বরাত দিয়ে জানা গেছে, সিরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদ হাসান আল-শাইবানি এই খবরকে 'ঐতিহাসিক পদক্ষেপ' হিসেবে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, 'বিচ্ছিন্নতার প্রভাব দূর করতে এবং স্বচ্ছতা, পারস্পরিক স্বার্থ ও সম্মানের ভিত্তিতে একটি পরিবেশ তৈরি করতে আমরা কাজ চালিয়ে যাব।'
গত বছর যুক্তরাষ্ট্র এইচটিএস-কে বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠনের তালিকা থেকে বাদ দেয় এবং শারাকে বিশেষভাবে চিহ্নিত বৈশ্বিক সন্ত্রাসীদের তালিকা থেকেও সরিয়ে দেয়। ১৯৭৯ সাল থেকে সিরিয়া যে তালিকায় ছিল, তা থেকে বাদ পড়ার পর এখন তালিকায় কেবল কিউবা, উত্তর কোরিয়া এবং ইরান রয়ে গেছে। এই তালিকাভুক্তির কারণে আর্থিক নিষেধাজ্ঞা, মার্কিন বিদেশি সহায়তা ও প্রতিরক্ষা রপ্তানির উপর বিধিনিষেধ আরোপ করা হতো এবং এই রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে বাণিজ্য করলে ব্যক্তি বা অন্যান্য দেশকেও শাস্তির মুখে পড়তে হতো।




