ইরান যুদ্ধ যত দীর্ঘায়িত হচ্ছে, কর্পোরেট ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর প্রভাব ততই গভীর হয়ে উঠছে। সংঘাতের কারণে সৃষ্ট মুদ্রাস্ফীতি বিভিন্ন শিল্পে ভিন্ন ভিন্ন প্রতিক্রিয়া তৈরি করছে; কেউ এই পরিস্থিতিকে পুঁজি করে লাভবান হচ্ছে, আবার অনেক প্রতিষ্ঠান ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়ছে। যুদ্ধের ফলে জ্বালানি ও প্রতিরক্ষা খাতের কিছু কোম্পানির মুনাফা বৃদ্ধি পেতে পারে, কিন্তু অন্যদিকে ভোক্তা পণ্য, পরিবহন ও নির্মাণ খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোকে খরচ বৃদ্ধির চাপ মোকাবিলা করতে হচ্ছে। আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোও ঋণ পরিশোধের ঝুঁকি এবং বিনিয়োগের অনিশ্চয়তার কারণে চাপের মধ্যে রয়েছে।

মুদ্রাস্ফীতির হার বৃদ্ধির ফলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর নীতিগত অবস্থানও প্রভাবিত হচ্ছে, যা বিনিয়োগ ও ভোগের পরিবেশকে আরও সংকুচিত করছে। যতদিন এই সংঘাত চলবে, ততদিন এসব প্রতিষ্ঠানের ওপর চাপ ক্রমশ বাড়তে থাকবে। সংঘাতের সমাধান না হলে কর্পোরেট ও আর্থিক খাতের এই সংকট আরও গভীর হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিভিন্ন দেশের বাজারে ইতিমধ্যে এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। কিছু শেয়ার সূচকে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে, আবার কিছু খাতে বিনিয়োগকারীদের আস্থা কমে গেছে। তবে যুদ্ধের ফলে কোন নির্দিষ্ট কোম্পানি বা খাত কতটা লাভ বা ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে, তা নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়। তবে এটা স্পষ্ট যে, দীর্ঘমেয়াদি এই যুদ্ধ বৈশ্বিক অর্থনীতিতে একটি নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে এবং কর্পোরেট জগতে বিজয়ী ও পরাজিতের মধ্যে পার্থক্য আরও প্রকট হয়ে উঠবে।