পাকিস্তান ক্রিকেটের কিংবদন্তি পেসার ওয়াকার ইউনিস তাঁর জীবন ও ক্যারিয়ারের নানা অজানা গল্প শেয়ার করেছেন। জি নিউজ ও আজতকের সাবেক সাংবাদিক শুভঙ্কর মিশ্রের একটি পডকাস্টে অংশ নিয়ে তিনি ইমরান খান, ওয়াসিম আকরাম এবং সমসাময়িক ক্রিকেট তারকাদের নিয়ে কথা বলেন।

নিজের ক্যারিয়ারের শুরুটা ছিল একেবারেই অভাবনীয়। ওয়াকার জানান, সুপার উইলস কাপের একটি ম্যাচে দিল্লি এবং ইউনাইটেড ব্যাংকের লড়াই যখন চলছিল, তখন অসুস্থ হয়ে বাড়িতে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন তৎকালীন অধিনায়ক ইমরান খান। টেলিভিশনে এক রোগা কিশোরের বিধ্বংসী বোলিং দেখে মুগ্ধ হন ইমরান। পরদিন জ্বর থাকা সত্ত্বেও মাঠে গিয়ে তিনি সরাসরি ওয়াকারকে জানিয়ে দেন যে, তাকে পাকিস্তানের হয়ে খেলার জন্য শারজায় যেতে হবে। কোনো ট্রায়াল বা নির্বাচক কমিটির দীর্ঘ প্রক্রিয়া ছাড়াই ইমরান খানের ওই একটি বাক্য ১৭-১৮ বছর বয়সী ওয়াকারের জীবন বদলে দিয়েছিল।

পেস বোলিংয়ের কথা উঠলে ওয়াসিম আকরামের সঙ্গে তাঁদের বিখ্যাত জুটির কথা স্মরণ করেন তিনি। ওয়াকার বলেন, তাঁদের দুজনের মধ্যে দল থেকে বাদ পড়ার ভয় ছিল না, বরং একে অপরকে ছাড়িয়ে যাওয়ার এক সুস্থ প্রতিযোগিতা চলত। একজন চার উইকেট নিলে অন্যজন পাঁচ উইকেট নেওয়ার চেষ্টা করতেন, যা তাঁদের দুজনের পারফরম্যান্সকেই উন্নত করেছিল। তবে শেষ ওভারে ৬ রান বাঁচানোর দায়িত্ব কার হাতে দেবেন asked হলে, ওয়াকার নিঃসঙ্কোচে ওয়াসিম আকরামের নামই বেছে নিয়েছেন।

বর্তমান প্রজন্মের বোলার জসপ্রীত বুমরা প্রসঙ্গে ওয়াকার বলেন, ভিন্ন যুগের বোলারদের তুলনা করা কঠিন হলেও সাদা বলের ক্রিকেটে বুমরার মতো প্রভাবশালী বোলার বিশ্ব ক্রিকেটে বিরল। কঠিন মুহূর্তে ম্যাচ ঘুরিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা বুমরার অনন্য বলে তিনি মনে করেন।

স্মৃতিচারণের এক পর্যায়ে ১৯৮৬ সালের শারজায় জাভেদ মিয়াঁদাদের সেই ঐতিহাসিক ছক্কার কথা বলেন ওয়াকার। তখন ১৪ বছর বয়সী দর্শক হিসেবে সেই দৃশ্য দেখেছিলেন তিনি। তাঁর মতে, ওই একটি শট পাকিস্তান ক্রিকেটের মানসিকতায় নতুন জোয়ার এবং হিরোইজমের জন্ম দিয়েছিল।

শচীন টেন্ডুলকার এবং তাঁর অভিষেক নিয়েও কথা বলেন ওয়াকার। ১৯৮৯ সালে একই টেস্টে তাঁদের দুজনের অভিষেক হয়েছিল। প্রথম দেখায় টেন্ডুলকারকে শিশুর মতো মনে হলেও, শিয়ালকোটের সবুজ উইকেটে তাঁর লড়াকু মানসিকতা দেখে ওয়াকার বুঝতে পেরেছিলেন যে এই ছেলেটি ক্রিকেট বিশ্বে বিশেষ জায়গা করে নেবে। নিজের সময়ের সেরা ব্যাটসম্যান হিসেবে তিনি ব্রায়ান লারা এবং শচীন টেন্ডুলকারকে অপ্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে উল্লেখ করেন। এছাড়া রিকি পন্টিং, রাহুল দ্রাবিড়, সৌরভ গাঙ্গুলী এবং বীরেন্দ্র শেবাগের মতো তারকাদের প্রতিও তাঁর শ্রদ্ধা প্রকাশ করেন।

কিছু তিক্ত স্মৃতির কথা বলতে গিয়ে তিনি ১৯৯৬ বিশ্বকাপে অজয় জাদেজার কথা মনে করেন। ৮ ওভারে ২৭ রানে ২ উইকেট নেওয়ার পর জাদেজা শেষ দুই ওভারে ৪০ রান করে নিয়েছিলেন। এই ঘটনার কথা মনে করে ওয়াকার ঠাট্টা করে বলেছিলেন, জাদেজাকে ৮০০ বার আউট করলেও এই ক্ষত সারবে না।

পডকাস্টের শেষে একটি ‘র‍্যাপিড ফায়ার’ পর্বে দ্রুত কিছু প্রশ্নের উত্তর দেন তিনি। সেখানে ইমরান খান বনাম কপিল দেবের লড়াইয়ে ইমরান খানকে, শচীন বনাম ইনজামাম-উল-হকের লড়াইয়ে শচীনকে এবং বিরাট কোহলি বনাম বাবর আজমের লড়াইয়ে কোহলিকে বেছে নেন। এছাড়া জসপ্রীত বুমরা এবং সাইদ আনোয়ারের নামও তিনি উল্লেখ করেন।