লা লিগায় ভিনিসিউস জুনিয়রের অনুপস্থিতিতেও দারুণ ছন্দ ধরে রেখেছে রেয়াল মাদ্রিদ। ব্রাজিলিয়ান এই ফরোয়ার্ডের অভাব তার সতীর্থরা এমনভাবে পূরণ করেছেন যে দলের খেলায় কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়েনি। এরই মাঝে প্রশ্ন উঠেছে, নিষেধাজ্ঞা শেষ হলে তিনি কি সরাসরি শুরুর একাদশে ফিরবেন? এই বিষয়ে কোচ জুজে মরিনিয়ো স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, একাদশে ভিনিসিউসের জায়গা এখন আর নিশ্চিত নয়।

গত মাসে ভিয়ারেয়ালের বিপক্ষে লাল কার্ড পাওয়ার ফলে লা লিগায় চার ম্যাচের নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়েছিলেন ভিনিসিউস। আগামী শনিবার ভালেন্সিয়ার বিপক্ষে ম্যাচটি হবে তার নিষেধাজ্ঞার শেষ ম্যাচ। তবে ২০২৪ সালের ফিফা বর্ষসেরা ফুটবলারকে ছাড়াই গত তিনটি লিগ ম্যাচে দাপট দেখিয়েছে মাদ্রিদ। সেভিয়ারকে ৪-১, বার্সেলোনাকে ২-১ এবং রেসিং সান্তান্দেরকে ৩-০ গোলে পরাজিত করেছে তারা। এই জয়গুলোর পেছনে বিশেষ ভূমিকা রেখেছেন আইভরি কোস্টের উইঙ্গার ইয়ান ডিওমান্ডে। সব ধরনের প্রতিযোগিতা মিলিয়ে শেষ ছয় ম্যাচে চারটি গোল এবং তিনটি অ্যাসিস্ট করে তিনি একাদশে নিজের গুরুত্ব প্রমাণ করেছেন, যা ভিনিসিউসের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে মরিনিয়ো ভিনিসিউসের একাদশে ফেরা নিয়ে কোনো গ্যারান্টি দেননি। তিনি বলেন, তার কাছে ব্যক্তিগত পছন্দের চেয়ে দলের সামগ্রিক স্বার্থ অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কোনো একজন খেলোয়াড়কে বিশেষ সুবিধা দিতে গিয়ে তিনি দলের ক্ষতি করতে রাজি নন। ভিনিসিউস যখন পুরোপুরি প্রস্তুত হয়ে ফিরবেন, তখন পরিস্থিতি বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। মরিনিয়ো আরও উল্লেখ করেন যে, তিনি সব খেলোয়াড়ের সর্বোচ্চ সামর্থ্যের ওপর আস্থা রাখেন। তার মতে, একজন ভালো খেলোয়াড় প্রতিকূল পরিবেশেও ছন্দে ফেরার চেষ্টা করেন, আর একজন খারাপ খেলোয়াড় চেষ্টা করলেও খারাপই থাকেন।

চলতি মৌসুমে নিজের সেরা ফর্মে ফিরতে হিমশিম খাচ্ছেন ভিনিসিউস। ক্লাবের হয়ে ১২টি ম্যাচে তিনি মাত্র একটি গোল করতে পেরেছেন। তবে তার প্রতি সতীর্থদের পূর্ণ আস্থা রয়েছে এবং তারা তাকে সবরকম সহযোগিতা করছে বলে জানান কোচ। সবশেষে মরিনিয়ো গুরুত্ব দিয়ে বলেন, দলের ভালোর জন্য যখনই সিদ্ধান্ত নিতে হবে, তখনই দলের স্বার্থকে প্রাধান্য দেবেন তিনি। বাংলাদেশ সময় শনিবার রাত দুইটায় ভালেন্সিয়ার মাঠে রেয়াল মাদ্রিদের এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে।