পলেস্তুনি সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসের অর্থায়নের দীর্ঘমেয়াদী একটি নেটওয়ার্ক ভেঙে দিয়ে ৫ লাখ ৬০ হাজার মার্কিন ডলারের বেশি ক্রিপ্টোকারেন্সি জব্দ করেছে মার্কিন তদন্ত সংস্থা এফবিআই। মঙ্গলবার মার্কিন বিচার বিভাগ এক আনুষ্ঠানিক ঘোষণার মাধ্যমে এই সাফল্যের কথা জানায়। হামাসের সামরিক শাখার জন্য পাঠানো এই ডিজিটাল কারেন্সি জব্দ করার পাশাপাশি তারা গোষ্ঠীটির তহবিল সংগ্রহ এবং সদস্য সংগ্রহের কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন ওয়েবসাইট ডোমেইন ও যোগাযোগ মাধ্যমগুলোকেও নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে। এছাড়া, যারা হামাসকে অর্থ প্রদানের উদ্দেশ্যে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল, এমন হাজার হাজার ব্যক্তির তথ্যও সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়েছে মার্কিন কর্তৃপক্ষ।
এই অভিযান সম্পর্কে একটি ভিডিও বার্তায় ডিস্ট্রিক্ট অফ কলম্বিয়ার মার্কিন অ্যাটর্নি জেনিন পিরো অত্যন্ত কড়া ভাষায় সতর্ক করে বলেন, হামাসের নেটওয়ার্কগুলো মোটেও নিরাপদ নয় এবং তাদের ক্রিপ্টোকারেন্সিগুলো অরক্ষিত। যুদ্ধ চালানোর ক্ষমতা পুরোপুরি খর্ব না করা পর্যন্ত এই অভিযান চলবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন।
এফবিআই-এর দাখিলকৃত হলফনামা থেকে জানা গেছে, হামাস তাদের সামরিক শাখা 'কাসাম ব্রিগেডস'-এর মাধ্যমে ২০১৯ সালের শুরুর দিকে ভার্চুয়াল কারেন্সির মাধ্যমে তহবিল সংগ্রহের পরীক্ষা-নিরীক্ষা শুরু করেছিল। তারা মূলত টেলিগ্রাম চ্যানেলের পাশাপাশি সরাসরি অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে অনুদান আহ্বান করত। হামাস কর্মকর্তারা দাবি করেছিলেন যে, এই ডিজিটাল মুদ্রা শনাক্ত করা অসম্ভব। এমনকি তাদের ওয়েবসাইটে বেনামে অনুদান দেওয়ার বিস্তারিত নির্দেশনাও দেওয়া ছিল।
তদন্তে বড় ধরনের মোড় আসে গত বছর, যখন এফবিআই কাসাম ব্রিগেডসের জন্য ভার্চুয়াল কারেন্সির মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহকারী একটি নেটওয়ার্ক শনাক্ত করে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত এক গোপন সূত্র আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে টেলিগ্রামের একটি পোস্ট সম্পর্কে অবহিত করেন, যেখানে হামাসের সঙ্গে যুক্ত একটি ইমেল ঠিকানায় অনুদান পাঠানোর অনুরোধ করা হয়েছিল।
এফবিআই-এর সাইবার বিভাগের সহকারী পরিচালক ব্রেট লিথারম্যান জানিয়েছেন, ডিজিটাল নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোর অর্থ সংস্থানের পথ বন্ধ করতে এবং অবৈধ তহবিল বাজেয়াপ্ত করতে তারা তাদের আইনি ক্ষমতা ব্যবহার করা অব্যাহত রাখবে। তবে এই বিষয়ে হামাস কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

