মাদকাসক্তির চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছে নিজের বসতঘরে আগুন দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর পৌর শহরের বড়খারচর মহল্লার এক যুবকের বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত ফুল মিয়ার (৩২) এই কর্মকাণ্ডে পরিবারের সব সহায়-সম্পদ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। পুলিশ গত বৃহস্পতিবার তাকে নিজ গ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করে কিশোরগঞ্জ কারাগারে প্রেরণ করেছে।
ঘটনাটি ঘটে গত বুধবার রাতে। পরিবারের সদস্যদের বিবরণ অনুযায়ী, দীর্ঘ ১০ বছর আগে ফুল মিয়া মাদকাসক্ত হন এবং গত ছয় বছর ধরে তার নেশার পরিমাণ বহুগুণ বেড়ে যায়। নেশার টাকা জোগাড় করতে না পারলে তিনি বাবা-মায়ের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালাতেন এবং ঘরের আসবাবপত্র ভাঙচুর করতেন। বুধবার রাত ৮টার দিকে নিজের বাবার মামার মুদিদোকানে গিয়ে বাকিতে পণ্য নিতে চাইলে দোকানদারের সঙ্গে কথা-কাটাকাটির এক পর্যায়ে ফুল মিয়া তাকে মারধর করেন। এরপর বাড়ি ফিরে নিজের মা ও বোনকেও তিনি প্রচণ্ড মারধর করেন এবং হত্যার হুমকি দেন।
ভীত হয়ে বাবা আবু বক্কর ও মা রুবিনা বেগম পাশের বাড়িতে আশ্রয় নেন। কিছুক্ষণ পর ফিরে এসে তারা দেখেন তাদের টিনশেড বসতঘরে দাউ দাউ করে আগুন জ্বলছে। কুলিয়ারচর ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা প্রায় এক ঘণ্টা চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। তবে ততক্ষণে ঘরের ভেতরে থাকা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, বই-খাতা, কাপড়চোপড় ও আসবাবপত্রের পাশাপাশি ১৫টি হাঁস এবং প্রায় ৪০টি মুরগি পুড়ে মারা যায়। এই ঘটনায় সংক্ষুব্ধ মা রুবিনা বেগম তার ছেলের কঠোর শাস্তি দাবি করে বলেন, ছেলের কারণে তার সবকিছু শেষ হয়ে গেছে, তাই তার জন্য ফাঁসি বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের প্রার্থনা করছেন। অন্যদিকে, এই ঘটনায় ফুল মিয়ার বাবা আবু বক্কর থানায় মামলা দায়ের করেছেন।
পরিবারের সদস্যদের প্রত্যাশা ছিল, চার বছর আগে বিয়ের পর অথবা দেড় বছর আগে কন্যাসন্তান হওয়ার পর ফুল মিয়া হয়তো নেশা ছেড়ে দেবেন। কিন্তু তা হয়নি। শেষ পর্যন্ত ছয় মাস আগে তার স্ত্রী সন্তানকে নিয়ে বাবার বাড়ি চলে যান। এর পর থেকে তার নির্যাতন আরও বেড়ে যায়। আগুনে সব হারানোর শোকে অসুস্থ হয়ে পড়া বাবা আবু বক্করকে কুলিয়ারচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। তার ছোট ভাই দিপুর মতে, পুড়ে যাওয়া ঘরের চেয়ে পরিবারের মানসিক কষ্ট অনেক বেশি।
পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে ফুল মিয়া মাদক গ্রহণ এবং নিজের ঘরে আগুন দেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন। তবে তিনি পাল্টা দাবি করেছেন যে, পরিবারের সদস্যরা তাকে মারধর করেছিলেন। কুলিয়ারচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাম্মেল হক নিশ্চিত করেছেন যে, অভিযুক্ত ব্যক্তি মাদকাসক্ত ছিলেন এবং নেশার টাকার জন্য পরিবারের সদস্যদের নির্যাতন করার পাশাপাশি ঘরে আগুন দেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন।




