হাঁটুর জয়েন্টের ভেতরে শক অ্যাবজর্বার বা কুশনের মতো ভূমিকা পালন করে মিনিসকাস। বিভিন্ন কারণে এই অংশটি ক্ষতিগ্রস্ত হলে তাকে মিনিসকাস ইনজুরি বলা হয়। সাধারণত হাঁটুর অতিরিক্ত মোচড় লাগলে কিংবা শরীরের অত্যধিক ওজনের চাপে মিনিসকাস ছিঁড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

এই ধরনের ইনজুরির বেশ কিছু স্পষ্ট লক্ষণ রয়েছে। আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁটুর জয়েন্টের ভেতরের বা বাইরের দিকে তীব্র ব্যথা অনুভূত হয়। ইনজুরি হওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হাঁটু ফুলে উঠতে পারে এবং জয়েন্ট শক্ত হয়ে যেতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে হাঁটু পুরোপুরি ভাঁজ করতে বা সোজা করতে সমস্যা হয় এবং মনে হয় যেন ভেতরে কিছু আটকে আছে। এছাড়া হাঁটুতে ভর দিয়ে দাঁড়াতে গেলে বা দিক পরিবর্তন করে ঘুরতে গেলে হাঁটু দুর্বল বা অবশ মনে হতে পারে। হাঁটু নাড়াচাড়া করার সময় ভেতরে পপ বা ক্লিক জাতীয় শব্দ হওয়াও এর একটি লক্ষণ।

চিকিৎসা পদ্ধতি মূলত নির্ভর করে রোগীর বয়স, দৈনন্দিন জীবনযাত্রার ধরন এবং ইনজুরির তীব্রতার ওপর। যদি ইনজুরি সামান্য হয় এবং রক্তের সরবরাহ ভালো এমন অংশে ছিঁড়ে থাকে, তবে তা প্রাকৃতিকভাবে সেরে ওঠার সম্ভাবনা থাকে। সেক্ষেত্রে প্রাথমিক চিকিৎসায় হাঁটুতে চাপ পড়ে এমন কাজ থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়। দিনে তিন থেকে চারবার ১৫-২০ মিনিট করে বরফ সেঁক দিলে ফোলা ও ব্যথা হ্রাস পায়। এছাড়া হাঁটু স্থিতিশীল রাখতে ইলাস্টিক ব্যান্ডেজ ব্যবহার এবং ঘুমানোর সময় হাঁটু বালিশের ওপর উঁচুতে রাখা কার্যকর। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী পেইনকিলার বা প্রদাহরোধী ওষুধ এবং নির্দিষ্ট কিছু ব্যায়ামের মাধ্যমে হাঁটু শক্তিশালী করা সম্ভব।

তবে কনজারভেটিভ চিকিৎসায় কাজ না হলে, ইনজুরি গুরুতর হলে কিংবা হাঁটু আটকে গেলে শল্যচিকিৎসার প্রয়োজন হয়। বর্তমানে আর্থ্রোস্কোপি নামক একটি আধুনিক দুরবিন পদ্ধতির মাধ্যমে এই সার্জারি করা হয়। অপারেশনের ধরন অনুযায়ী ছিঁড়ে যাওয়া অংশটি সেলাই করে জোড়া লাগানো (মিনিসকাস রিপেয়ার), ক্ষতিগ্রস্ত অংশটি কেটে বাদ দেওয়া (মেনিসেকটমি) অথবা বিরল ক্ষেত্রে পুরো মিনিসকাস প্রতিস্থাপন (মিনিসকাস ট্রান্সপ্ল্যান্ট) করা হতে পারে। অস্ত্রোপচারের পর পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠতে কয়েক সপ্তাহ থেকে কয়েক মাস পর্যন্ত ফিজিওথেরাপি ও পুনর্বাসনের প্রয়োজন হয়।

এই বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রদান করেছেন বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালের অর্থোপেডিক সার্জারি বিভাগের বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. জি এম জাহাঙ্গীর হোসেন।