আইনজীবীদের পেশাগত মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করার অভিযোগে লক্ষ্মীপুর-১ (রামগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য শাহাদাত হোসেন সেলিমের বিরুদ্ধে লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়েছেন জেলা জজ আদালতের আইনজীবী ওমর ফারুক তুষার। বৃহস্পতিবার রামগঞ্জে সংসদ সদস্যের গ্রামের বাড়ির ঠিকানায় এই নোটিশটি প্রেরণ করা হয়। নোটিশের মূল দাবি হলো, আইনজীবীদের নিয়ে করা সংসদ সদস্যের বক্তব্য ছিল অত্যন্ত অপমানজনক এবং মানহানিকর। আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে এই বিতর্কিত বক্তব্য প্রত্যাহার করে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। অন্যথায় প্রচলিত আইনের আওতায় যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সতর্ক করা হয়েছে ওই নোটিশে।
ঘটনার সূত্রপাত বুধবার রামগঞ্জের কচুয়া আহমদিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসায় আয়োজিত বার্ষিক ক্রীড়া পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান থেকে। উক্ত অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় শাহাদাত হোসেন সেলিম আইনজীবীদের উদ্দেশ্য করে বলেন, “আইনজীবীরা রাতে দোয়া করে যেন আগামীকাল দুই-চারজন মাদকসেবী পাই ও জামিন করাইতে পারি, জামিন করিয়ে ভালো-মন্দ বাজার করে বাড়ি ফিরতে পারি।” তিনি আরও দাবি করেন যে, সামান্য কিছু টাকার বিনিময়ে আইনজীবীরা মাদকসেবীদের জামিন করিয়ে থাকেন। এই বক্তব্যের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় আইনজীবী মহলে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয় এবং তারা এর প্রতিবাদ জানান।
লিগ্যাল নোটিশ পাঠনকারী আইনজীবী ওমর ফারুক তুষারের মতে, একজন সংসদ সদস্যের এমন মন্তব্য আইনজীবী সমাজের সামাজিক মর্যাদা এবং সম্মানকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে, যা সরাসরি মানহানির শামিল।
অন্যদিকে, এই অভিযোগের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে শাহাদাত হোসেন সেলিম জানান, তিনি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো লিগ্যাল নোটিশ পাননি, তবে বিষয়টি তার কানে এসেছে। নোটিশ হাতে পেলে আইনি প্রক্রিয়ায় তার উত্তর দেবেন বলে জানান তিনি। সংসদ সদস্যের দাবি, মাদকের বিরুদ্ধে কথা বলার সময় প্রাসঙ্গিকভাবে আইনজীবীদের প্রসঙ্গ এসেছে, কিন্তু তার উদ্দেশ্য কাউকে ব্যক্তিগতভাবে আঘাত করা ছিল না। তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, অনুষ্ঠানের বক্তব্যের খণ্ডিত অংশ এদিক-সেদিক করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে ইচ্ছাকৃতভাবে বিতর্ক তৈরি করা হয়েছে।




