১০ লক্ষেরও বেশি চালকের নেতৃত্ব দেওয়া রাইডশেয়ারিং প্রতিষ্ঠান লিফটের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ডেভিড রিশার এক ভিন্নধর্মী পদ্ধতি অবলম্বন করছেন। প্রতি ছয় সপ্তাহে একবার অথবা সুযোগ পেলেই তিনি নিজেই নিজের গাড়ি নিয়ে সাধারণ চালকদের মতোই রাস্তায় নেমে পড়েন। তার মতে, এই অভিজ্ঞতার মাধ্যমে তিনি বুঝতে পেরেছেন যে মানুষের দৈনন্দিন জীবনে লিফটের পরিষেবা কতটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, যা অনেক সময় অফিসের ভেতরে বসে উপলব্ধি করা সম্ভব হয় না।

রিশার সান ফ্রান্সিসকোর একটি এলাকা থেকে এক যাত্রীকে তুলে নেওয়ার স্মৃতিচারণ করে জানান, ওই ব্যক্তি তাকে বলেছিলেন যে ঠিক সময়ে কর্মস্থলে পৌঁছানো তার চাকরির জন্য অত্যন্ত জরুরি। ১০টার বদলে ১০টা ১ মিনিটে পৌঁছালে তার চাকরি চলে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। খরচ কম হলেও গণপরিবহন নির্ভরযোগ্য না হওয়ায় তিনি লিফটের ওপর নির্ভরশীল। এই ধরনের অভিজ্ঞতাই রিশারকে উপলব্ধি করিয়েছে যে, সামান্য এক মিনিটের দেরি একজন গ্রাহকের জীবন ও জীবিকায় বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

২০২৩ সালে লোগান গ্রিন এবং জন জিমারের কাছ থেকে দায়িত্ব নেওয়ার সময় লিফটের অবস্থা খুব একটা ভালো ছিল না; তারা উবারের সাথে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে ছিল এবং মুনাফা অর্জনে হিমশিম খাচ্ছিল। তবে রিশারের নেতৃত্বে গত তিন বছরে লিফটের শেয়ারের দাম প্রায় ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। গ্রাহকদের চাহিদাকে গুরুত্ব দিয়ে তিনি অ্যাপে 'প্রাইস লক' ফিচার চালু করেছেন, কারণ তিনি সসালিটোতে এক যাত্রীর কাছ থেকে জানতে পেরেছিলেন যে অতিরিক্ত দাম (সার্জ প্রাইসিং) গ্রাহকদের জন্য বড় বাধা। এছাড়া ১৩ থেকে ১৭ বছর বয়সীদের জন্য 'লিফট টিন' নামে নতুন ফিচার চালু করা হয়েছে, যা আগে নিষিদ্ধ ছিল।

রিশারের এই চালক হওয়ার মূল লক্ষ্য আয় করা নয়, বরং শেখা। তিনি বলেন, চালক এবং যাত্রী—উভয় পক্ষের অভিজ্ঞতা সরাসরি জানলে কোম্পানির দুর্বল জায়গাগুলো চিহ্নিত করা সহজ হয়। তার এই জীবনযাত্রা কেবল পেশাগত নয়, বরং ব্যক্তিগত স্মৃতিতেও মিশে আছে। ছোটবেলায় তিনি ওয়াশিংটন পোস্টের খবরের কাগজ বিলি করতেন এবং উচ্চশিক্ষার সময় ওয়েটার হিসেবে কাজ করেছেন। হার্ভার্ড বিজনেস স্কুল থেকে এমবিএ করার পর মাইক্রোসফটে কাজ করেন এবং ১৯৯৭ থেকে ২০০২ সাল পর্যন্ত আমাজনের ইউএস রিটেইল বিভাগের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে জেফ বেজোস-এর অধীনে দায়িত্ব পালন করেন।

রিশার জানান, জেফ বেজোস-এর দেওয়া একটি ব্যবসায়িক পরামর্শ তিনি এখনো অনুসরণ করেন—যা হলো, সেই বিষয়গুলোর ওপর বিনিয়োগ করা এবং পণ্য তৈরি করা যেগুলোর গুরুত্ব কখনোই পরিবর্তিত হয় না। রিশারের এই বাস্তবমুখী নেতৃত্ব এবং গ্রাহক-কেন্দ্রিক চিন্তাভাবনাই লিফটের বর্তমান প্রবৃদ্ধির পেছনে বড় ভূমিকা রাখছে বলে মনে করা হয়।